‘সেক্রিফাইস’ শব্দটাকে যেন নিজের সাথে জুড়ে নিয়েছেন লোকেশ রাহুল। দলের প্রয়োজনে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন সব সময়। ওপেনার থেকে ফিনিশার, ব্যাটিং অর্ডার সবখানেই তাঁকে নিয়ে হয়েছে কাটাছেঁড়া। তবুও নির্বাক রাহুল নিজের কাজটা করেছেন ব্যাট হাতে। যেখানে কোন আলো নেই, সেখানেই রাহুল পথ দেখিয়েছেন দলকে, একান্তে, খুব নীরবে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাট হাতে যখন নামলেন রাহুল, ক্যামেরার সব লেন্স কোহলি বন্দনায় ব্যস্ত। রাইপুরের গ্যালারির গর্জন পাশ কাটিয়ে রেখে রাহুল নিজের ব্যাটে সুভাস ছড়িয়ে গেলেন। ফিফটি তুলে ব্যাটটাকে উঁচিয়ে ধরলেন, হয়তো কিছুটা অভিমানের গুমট আক্ষেপ নিয়েই উদযাপন করলেন। দলকে এনে দিলেন বিশাল পুঁজি।

আগের ম্যাচেও একই দৃশ্যের মঞ্চায়ন ঘটিয়েছিলেন। সে ম্যাচে রোহিত-কোহলিদের দাপটের সাথে নীরব স্রোতে ভাসিয়ে নিয়েছিলেন ব্যাটটাকে। ৬০ রানের ইনিংস খেলে নেতার কাজটা করেছিলেন অগোচরে। সৌন্দর্যের সাথে নিষ্ঠুর, নির্মম ব্যাটিংয়ে দমিয়ে রেখেছিলেন আফ্রিকান বোলারদের চোখ রাঙানি। তবে সে কথা কেউ মনে রাখেনি।
রাহুলের আক্ষেপটা হতে পারে এখানেই। ওমন চোখধাঁধানো কারুকার্য যার ব্যাট থেকে তাঁকে খেলানো হয় পাঁচ নম্বরে। নিজের স্বভাবজাত পজিশন ছেড়ে মিডল অর্ডারে দলের অগাধ আস্থা হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। টি-টোয়েন্টি, টেস্ট কিংবা ওয়ানডে, বলের রঙ বদলালেও বদলায়নি কেবল তাঁর নীরব আত্মত্যাগটা।

তবুও যে রাহুলকে দমানো যায়নি। ওই ব্যাটটাকে আটকে রাখা যায়নি কোন ছুঁতোই। রান করেছেন, দলকে জিতিয়েছেন আর মনের ভেতর বীজমন্ত্র হিসেবে ধারণ করেছেন, আড়ালেও থেকেও নিজের কাজ করা যায়, আড়ালে থেকেও নায়ক হওয়া যায়।











