একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ পরীক্ষা নেয় লাল বলের ক্রিকেট। এবারের জাতীয় ক্রিকেট লিগে, সেই পরীক্ষায় লেটার মার্কস পাওয়ার দৌড়ে আছেন প্রত্যেক খেলোয়াড়। ব্যাটারদের মধ্যে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের জন্য রীতিমত উঠে পড়ে লেগেছেন। টুর্নামেন্টের অন্তিম লগ্নে ৫০০ রানের গণ্ডি ছাড়িয়েছেন দুই জন ব্যাটার। আর ৪০০ রানের সংগ্রহ নিয়ে তাদেরকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন আরও পাঁচ ব্যাটার।
এদের মধ্যে সবার উপরে রয়েছে সৌম্য সরকারের নাম। ৫৭৭ রান নিয়ে তিনি এখন টেবিল টপার। ১২ ইনিংসে এক সেঞ্চুরি ও তিনটি হাফ সেঞ্চুরি এসেছে তার ব্যাট থেকে। দ্বিশতক করতে না পারার আক্ষেপ নিয়ে সৌম্যর সর্বোচ্চ রানের ইনিংসটি থেমেছিল ১৮৬ রানে। অভিজ্ঞ সৌম্যর কাছ থেকে এমন আধিপত্যই তো প্রত্যাশিত।
তবে এবারের এনসিএলে খানিকটা অবাক সম্ভবত করেছেন প্রীতম কুমার। রাজশাহী বিভাগের হয়ে দূর্দান্ত সময় কাটাচ্ছেন ২৪ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে সেঞ্চুরি রয়েছে মোট চারটি। যার মধ্যে দুইটিই তিনি আদায় করেছেন এবারের আসরে। আর দুই হাফসেঞ্চুরি সহ তার মোট সংগ্রহ ৫১০ রান। তিনি রয়েছেন দুই নম্বর স্থানে।

জাতীয় দল থেকে নিজের জায়গা হারানো জাকির হাসানও হয়ত ফেরার তাড়না অনুভব করেছেন প্রবলভাবে। সে কারণেই সম্ভবত নিজের সামর্থ্যের ঝলক তিনি আবারও তুলে ধরেছেন এনসিএলের মঞ্চে। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের মধ্যে তার গড়ই সবচেয়ে বেশি। ৫২.৪৪ গড়ে রান তুলে যাচ্ছেন জাকির। ১১ ইনিংসে ব্যাট করে তার ঝুলিতে আছে ৪৭২ রান। দুঃখজনক হলেও সত্য, পাঁচটি ফিফটি হাঁকালেও সেঞ্চুরি ছোঁয়া হয়নি তার।
তবে সেদিক থেকে আবার পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক বাগিয়ে নেওয়া মোহাম্মদ নাঈম শেখ। একটি সেঞ্চুরি ও চারটি হাফসেঞ্চুরির সাথে তিনি নিজের ধারাবাহিকতা ঠিকই বজায় রেখেছেন। জাতীয় দলে পারফরম করতে না পারলেও, ঘরোয়া ক্রিকেটের রীতিমত হটকেক নাঈম। এনসিএলে এখন অবধি ৪৬৪ রান এসেছে নাঈমের ব্যাট থেকে। ব্যাট করেছেন ১০ ইনিংস।
তালিকার পঞ্চম নামটি মার্শাল আইয়ুব। ঢাকা বিভাগের হয়ে ৪৬০ রান একাই তুলেছেন মার্শাল। প্রীতমের মত সমান দুইটি করে সেঞ্চুরি ও হাফসেঞ্চুরি আছে মার্শালের নামের পাশে। ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার প্রমাণ করছেন, বুড়িয়ে গেলেও ফুরিয়ে যাননি তিনি। টুর্নামেন্টের শেষে এই তালিকায় রদবদল আসবে কি-না সেটাই এখন দেখার বিষয়।












