তিলক ভার্মার পতনের মধ্য দিয়ে ঘটে ভারত নামক দূর্গের পতন। কুইন্টন ডি ককের দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা। বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিং, ব্যাটারদের ব্যর্থতা- দুইয়ের মিশলে ভারত পা ঠেলে দূরে সরাল সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। দূর্দান্তভাবে বাউন্সব্যাক করল প্রোটিয়ারা।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট। তাদের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে একপেশে। এমন ভাবাটা যেন অনর্থক। দক্ষিণ আফ্রিকা তেমনটি হতেও দিল না। ভারতকে রান পাহাড়ে চাপে ফেলে দেয় কুইন্টন ডি কক ও তার দলের ব্যাটাররা। রিজা হেন্ড্রিকস হাত খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন।
তবুও প্রোটিয়া ব্যাটারদের দমানো যায়নি। যার সিংহভাগ কৃতীত্ব কুইন্টন ডি ককের প্রাপ্য। ভারতীয় বোলারদের মানসিক দৃঢ়তার বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন বা-হাতি এই ব্যাটার। সেই ধাক্কায় তিনি নিজের দামটাও সম্ভবত বাড়িয়ে নিলেন। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের নিলাম তো সামনেই। ৪৬ বলে, ৯০ রানে আউট হয়েছেন তিনি।

সেই আগ্রাসনের ভীতের উপর দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোরবোর্ডে তোলে ২১৩ রানের বিশাল সংগ্রহ। ডোনোভান ফেরেইরার ১৬ বলে ৩৯ রানের ঝড়, শেষ অবধি ২০০ ছাড়াতে সাহায্য করেছে। এদিন অবশ্য ভারতীয় বোলারদের বোলিংও ছিল অনিয়ন্ত্রিত। ২২টি অতিরিক্ত রান বিলিয়েছেন বোলাররা।
যথারীতি রাজ্যের চাপ নিয়ে ব্যাটিংয়ের নামেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ২১৪ রানের টার্গেট টপকাতে ভারতের তুরুপের তাস হতে হতো অভিষেক শর্মাকে। কিন্তু মারকুটে এই বা-হাতি এই ব্যাটার, এদিন ব্যর্থ হলেন। তবে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের দুই অধিনায়কের দ্রুত বিদায়ে ভারত হয়ে পড়ে কোণঠাসা।
তবুও অদম্য চিত্তে লড়াই করার ব্রত নিয়ে রান তুলতে থাকেন তিলক ভার্মা। দলের একমাত্র ব্যাটার হিসেবে, তিনি পার করেন অর্ধশতকের মাইলফলক। কিন্তু লোন ওয়ারিয়ারের শেষ পঙক্তিতে যুক্ত হয়েছে ট্রাজিডি। তিলক ভার্মা দলকে ম্যাচটা শেষ অবধি জেতাতে পারেননি। দলের আর কোন ব্যাটারই তাকে সেই অর্থে সঙ্গটা দিয়ে যেতে পারেননি।

৩৪ বলে ৬২ রান করে তিলক আউট হলে, থেমে যায় ভারতের সকল প্রতিরোধ। তার ইনিংসটি অবশ্য লজ্জার হাত থেকে বাঁচিয়েছে। নতুবা ৫১ রানের পরাজয়ের ব্যবধান নিঃসন্দেহে চলে যেত ১০০ রানের কাছাকাছি কোন এক অবস্থানে। চন্ডিগড়ে প্রোটিয়াদের এই জয়ে, জমে উঠল পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।











