আকাশের কোনো সীমা নেই, আর বৈভব সুরিয়াভানশিকে থামানোর সাধ্য কারো নেই। ফিফটি পেরিয়ে শতক, এরপর দেড়শ রানের গণ্ডিটাও পেরিয়ে গেলেন। এ যেন সীমাহীন আকাশে উঠতে থাকা এক ফিনিক্স পাখির গল্প। যার নাগাল পাওয়া একেবারে দুঃসাধ্য। যখন সেঞ্চুরি করলেন, এরপর ব্যাটটা উঁচিয়ে ধরলেন নির্লীপ্ত ভঙ্গিতে। যেন কোনো বিশেষ কিছুই করেননি তিনি, এটাই তাঁর নিত্যদিনের কাজ।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে যে ঝড়টা শুরু করেছিলেন, তা এখনও চলছে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে বোলারদের জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়ঙ্কর সময়। তাঁর আরও এক পূর্বাভাস পাওয়া গেল যুব ওয়ানডে এশিয়া কাপের মঞ্চে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ব্যাট হাতে শুরুটা অবশ্য করেছিলেন দেখেশুনে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছেন, দেখিয়েছেন নিজের স্বভাবজাত রূপ। একপর্যায়ে হয়তো ভুলেই গিয়েছিলেন খেলাটা ২০ নয়, ৫০ ওভারের। একের পর এক বল আছড়ে পড়ছে গ্যালারিতে, প্রতিপক্ষের বোলার থেকে ফিল্ডার সবাই কেবল তাকিয়ে দেখছে। তবে এ ছাড়া আর কিইবা করার ছিল তাদের

ফিফটি এলো ৩০ বলে। টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট চালালেন। তাঁর কাছে যে ফরম্যাটটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বল পেলে তিনি মারবেনই। ভারতের স্কোরবোর্ডে রান আসতে থাকে টি-টোয়েন্টির গতিতে। শতকটা বৈভব পেলেন ৫৬ বল খেলে। উদযাপনে অলসতার ছাপ, বুঝিয়ে দিলেন এখনও অনেক কাজ বাকি তাঁর।
এরপর আবারও ছুটিয়ে দিলেন তাঁর রান ঘোড়া। কোনোভাবেই সে ঘোড়া আটকানোর উপায় পাচ্ছে না তখন আমিরাত। দেড়শ এলো ব্যাটে, হাতছানি দিচ্ছিল ২০০ রানের মাইলফলক। তবে অবশেষে বৈভব থামলেন, স্বস্তি ফিরল আমিরাত শিবিরে।
তবে ততক্ষণে যে নামের পাশে ৯৫ বলে ১৭১ রানের ইনিংস লিখে ফেলেছেন বৈভব। এ যেন রূপকথা থেকে তুলে আনা এক গল্প। রীতিমত অবিশ্বাস্য। এই বৈভব যেন শাসকের আসনে বসার অপেক্ষায় থাকা এক যুবরাজ, যিনি নিজেকে তৈরি করছেন ঢাকঢোল পিটিয়েই।

Share via:











