২০০০ সাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল বিশ্ব মঞ্চে তখন যেন উড়ন্ত বাজপাখি। হ্যানসি ক্রনিয়ের নেতৃত্বে এই দলটি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ক্রিকেটের মঞ্চ। প্রোটিয়াদের নাম তখন যেন সবার মুখে মুখে। এইসময় ঘটে এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা, ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়ান দলের মধ্যমণি ক্রনিয়েসহ বেশ কিছু ক্রিকেটার। ব্যস অন্ধকার নেমে আসে আফ্রিকার আকাশে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে সেই লজ্জার সাক্ষী হয় সিয়ারাম ব্র্যান্ড।
ফেব্রুয়ারি-মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ভারত সফরে ছিল, তখনই খবর ছড়িয়ে পড়ে ক্রনিয়ে এবং দলের কিছু সদস্য গোপন আলাপচারিতায় বুকমেকারদের সঙ্গে খেলার ফল ও স্কোর প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচের নির্দিষ্ট রানের পরিকল্পনা, কিছু পারফরম্যান্স ঠিক করার জন্য চুক্তি এবং টাকার অঙ্ক সবই তদন্তে উঠে আসে।
প্রাথমিকভাবে ক্রনিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করলেও সত্য ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। এপ্রিলের মধ্যে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নতুন করে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের জন্য কলঙ্কের সূচনা করে।

এর আগেও একবার নিষিদ্ধ হতে হয়েছিল দলটিকে। ১৯৭০ থেকে ১৯৯১, দীর্ঘ ২১ বছর থাকতে হয়েছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দূরে। অবশ্য সেই কারণটা আবার ভিন্ন ছিল।
এবার আসা যাক সিয়ারাম কেন লজ্জার সাক্ষী হয়েছিল। সেবারের ভারত সফরে দক্ষিণ আফ্রিকা ছিল সিয়ারামের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর। বেশ ঘটা করেই তাদের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। ক্রনিয়েকে মধ্যমনি করে তারা সাজিয়েছিল বিজ্ঞাপনের পরিকল্পনা। তবে সেই ফিক্সিং কেলেঙ্কারির পর সব আয়োজন যেন বৃথা হয়ে যায়।
তবে সিয়ারাম আরও কিছু খেলোয়াড়ের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। তবে প্রতিবারই কোন না কোন ঝড় এসে ভেস্তে দিয়েছে সমস্ত পরিকল্পনা। তাই তো এক অর্থে তাদের হতভাগা বলাই যায়।

তবে সেই ঘটনা কেবল দলের খ্যাতি ক্ষুণ্ণ করেনি, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিশ্বাস, ব্র্যান্ডের সুনাম এবং খেলোয়াড়ের দায়বোধের উপরও গভীর ছাপ ফেলেছে। তার ফলস্বরূপ ক্রিকেট প্রশাসন আরও কঠোর নিয়ম ও নীতি বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগী হয়েছে পরবর্তীকালে।











