রশিদের ফুরিয়ে যাওয়ার অশনি সংকেত

সময়ের অন্যতম ধুরন্ধর স্পিনার রশিদ খান কি তবে ফুরিয়ে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্ন ওঠা ভীষণ স্বাভাবিক।

সময়ের অন্যতম ধুরন্ধর স্পিনার রশিদ খান কি তবে ফুরিয়ে যাচ্ছেন? এমন প্রশ্ন ওঠা ভীষণ স্বাভাবিক। কেননা তিনি যে হারিয়ে ফেলেছেন নিজের ধূর্ত সত্ত্বা। বল হাতে তিনি ভীষণ সাদামাটা। এই যেমন এসএ টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম ম্যাচে, তিনি ছিলেন ভীষণ খরুচে। চার ওভার হাত ঘুরিয়ে বিনা উইকেটে বিলিয়েছেন ৪৪ রান। রশিদ খানের সাথে এই বোলিং ফিগার তো বড্ড বেমানান।

তবে স্রেফ একটি ম্যাচ বিবেচনায় রশিদ খানের ফুরিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন তোলা মোটেও সমীচিন নয়। কিন্তু আরেকটু গভীরে ডুব দিলেই পরিষ্কার হবে প্রশ্নের পেছনের প্রভাবকগুলো। দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের আগে, রশিদ খেলেছিলেন আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেট বরাবরই স্পিন সহায়ক। স্লো উইকেটেও রশিদ ছিলেন নির্জীব। পাঁচ ম্যাচে তার শিকার মোটে চারটি উইকেট। অথচ উইকেট শিকারি হিসেবেই তো তিনি গোটা বিশ্বজুড়ে প্রসিদ্ধ। স্যাম্পল সাইজ হিসেবে আইএল টি-টোয়েন্টিও হয়ত যথাযথ নয়। কিন্তু রশিদের ব্যর্থতা তো চলমান পুরো বছর জুড়েই।

বছরের একেবারে শুরুর দিকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ২০ ওভার বল করেছেন রশিদ খান। পঞ্চাশ ওভারের সেই টুর্নামেন্টে স্রেফ একটি উইকেট প্রাপ্তিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ইকোনমি ছিল তার ৬.২৫। এরপর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও ব্যর্থতার অধ্যায় ছিল অব্যাহত।

গুজরাট টাইটান্সের জার্সিতে ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট তুলেছেন মাত্র ৯টি। ৯.৩৪ ইকোনমিতে রান বিলিয়েছেন আফগান স্পিনার। তাকে হয়ত গুজরাট ফ্রাঞ্চাইজি রিটেইন করত না। কিন্তু ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে তিনি ৬ ম্যাচে ১২ উইকেট নিজের পকেটে পুরেছেন। সে পারফরমেন্স আশার সঞ্চার ঘটালেও, পরিস্থিতি আমুলে বদলে যায়নি।

দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টেও তিনি ছিলেন খরুচে। ইকোনমি ছিল তার ৮.২০। মোদ্দাকথা দুর্ধর্ষ স্পিন জাদুকর থেকে ক্রমশ রশিদ খান পরিণত হচ্ছেন সাধারণ এক স্পিন বোলারে। এটা তার জন্য যেমন অশনি সংকেত, ঠিক তেমনি আফগানিস্তানের ক্রিকেটের জন্যও বেজায় বেদনার বিষয়।

কেননা পুরো বিশ্বে আফগানদের প্রতিনিধি হয়ে বিচরণ করে বেড়ান রশিদ খান। তার পারফরমেন্সের এমন বেহাল দশায় সেই ব্যপ্তির পরিধি কমিয়ে দেবে নিঃসন্দেহে। তাছাড়া রশিদের নিম্নগামী পারফরমেন্স দেশটির মাঠের ক্রিকেটকেও প্রভাবিত করবে। তিনিই যে আফগান ক্রিকেটের ‘সুপারস্টার’।

Share via
Copy link