নবম বোলার হিসেবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে হ্যাটট্রিকের স্বাদ আস্বাদন করেছেন মেহেদী হাসান রানা। পঞ্চম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে এমন কীর্তি গড়েছেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই পেসার। সর্বপ্রথম বিপিএলে হ্যাটট্রিক মঞ্চস্থ হয় ২০১২ সালের প্রথম আসরে। সেবার ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে পরপর তিন বলে উইকেট তুলে নেন পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ সামি।
দুরন্ত রাজশাহীর জার্সিতে প্রথম আসরেই হ্যাটট্রিক তুলে নেন সামি। সেটাই ছিল সেই আসরের প্রথম ও একমাত্র হ্যাটট্রিক। তার হ্যাটট্রিকের কল্যাণে সেই আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারিয়েছিল দুরন্ত রাজশাহী। এরপর বিপিএলে হ্যাটট্রিক দেখার অপেক্ষার প্রহর শেষ হয় ২০১৫ সালে। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পেসার আল-আমিন হোসেন পেয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের দেখা।
বরিশাল বুলসের জার্সি গায়ে আল আমিন সে ম্যাচে নিয়েছিলেন পাঁচটি উইকেট। সিলেট সুপার স্টার্সের বিপক্ষে সেদিন হ্যাটট্রিক আদায় করেন দ্বিতীয় ইনিংসের চতুর্থ ওভারে। মুশফিকুর রহিমের উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। তার বোলিং তোপে জয় পেয়েছিল বরিশাল বুলস।

এরপর আবারও হ্যাটট্রিক দেখার অপেক্ষার প্রহর গণনা শুরু হয়। ২০১৯ সালে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নেন বাংলাদেশের আলিস আল ইসলাম। ঢাকা ডায়নামাইটসের এই বোলার দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮ তম ওভারে রংপুর রাইডার্সের একটানা তিনটি উইকেট শিকার করেন। তাতে করে ২ রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয় তুলে নেয় ঢাকা।
ওই আসরে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের মালিক ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ওয়াহাব রিয়াজ। খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় পাকিস্তানি হিসেবে বিপিএল হ্যাটট্রিক তুলে নেন বা-হাতি এই পেসার। সেই আসরের তৃতীয় হ্যাটট্রিক এসেছিল আন্দ্রে রাসেলের কল্যাণে। ঢাকা ডায়নামাইটেসের জার্সিতে তিনি চট্টগ্রাম ভাইকিংসকে চেপে ধরেছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি রাসেলের দল ঢাকা ছিল জয় বঞ্চিত।
এরপর আবার ২০২২ সালে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে সেবার তিনি অংশ নিয়েছিলেন বিপিএলে। সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে বিপিএল ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিকের দেখা পান বা-হাতি এই পেস বোলার। ২০২৩ সালে আর কোন বোলার হ্যাটট্রিক তুএল নিতে সক্ষম হননি।

এক বছর বাদে, ২০২৪ সালে দুইখানা হ্যাটট্রিকের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ। সেই আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক আসে বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলামের হাত ধরে। দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিরুদ্ধে পেয়েছিলেন হ্যাটট্রিকের দেখা। এরপর সেই আসরে, চতুর্থ বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে বিপিএলে হ্যাটট্রিক করেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী।
এরপর গত আসরও কেটেছে হ্যাটট্রিক শূন্যতায়। এবারে আর সেই শূন্যতার অবকাশ রাখলেন না মেহেদী হাসান রানা। সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে তিনি ম্যাচটা জমিয়ে ফেলেন। পরপর তিন উইকেট তুলে ম্যাচের মোমেন্টাম দোদুল্যমান করে তোলেন। তবে শেষ অবধি পরাজিত সৈনিক হয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। এবারের মৌসুমে আরও হ্যাটট্রিকের দেখা কি মিলবে?











