গোধূলি লগ্নেও বাবরের চেয়ে উজ্জ্বল কোহলি!

আধুনিক ক্রিকেট এখন আর শুধু রান গোনার খেলা নয়। এখানে গুরুত্ব পায় সময়, প্রেক্ষাপট, চাপ আর প্রভাব। ২০২৫ সাল সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে যখন তুলনার মঞ্চে দাঁড়ান দুই ভিন্ন পথের দুই মহাতারকা, বিরাট কোহলি ও বাবর আজম।

আধুনিক ক্রিকেট এখন আর শুধু রান গোনার খেলা নয়। এখানে গুরুত্ব পায় সময়, প্রেক্ষাপট, চাপ আর প্রভাব। ২০২৫ সাল সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। বিশেষ করে যখন তুলনার মঞ্চে দাঁড়ান দুই ভিন্ন পথের দুই মহাতারকা, বিরাট কোহলি ও বাবর আজম।

একজন যখন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে, ফরম্যাট বেছে বেছে খেলছেন। অন্যজন তখন কাঁধে তুলে নিয়েছেন তিন ফরম্যাটেরই ব্যাটিং দায়িত্ব। ২০২৫ সালে বিরাট কোহলির ক্রিকেটজীবন কার্যত সীমাবদ্ধ ছিল ওয়ানডেতে। টেস্ট ক্রিকেট থেকে তিনি বিদায় নেন মে মাসেই, আর তারও আগে ২০২৪-এ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিককে বিদায় জানানোয় ছোট ফরম্যাটে তাঁকে দেখা যায়নি পুরো বছরজুড়ে। বিপরীতে, পাকিস্তান দলের প্রয়োজনে বাবর আজমকে খেলিয়েছে সব ফরম্যাটে, প্রায় বিরামহীনভাবে।

২০২৫ সালে ১৩টি ওয়ানডে ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৬৫.১০ গড়ে ৬৫১ রান করেন বিরাট। হাঁকিয়েছেন ৩টি শতক ও ৪টি অর্ধশতক। বিদায়ী বর্ষে লাল বলের ক্রিকেটে মাত্র দুই ইনিংস ব্যাট করেছেন। সংগ্রহ করেছেন ২৩ রান।

অপরদিকে এ বছর ওয়ানডেতে ১৭ ইনিংসে ৩৪ গড়ে ৫৪৪ রান করেছেন বাবর আজম। ১টি শতকের পাশাপাশি রয়েছে ৩টি অর্ধশতক। লাল বলের ফরম্যাটে ১০ ইনিংসে ৩১.৫০ গড়ে সংগ্রহ করেছেন ৩১৫ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৮ ইনিংসে করেছেন ২০৬ রান।

মোট রানের হিসাব ধরলে বাবর আজম এগিয়ে। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক রান ১০৬৫, যেখানে কোহলির সংগ্রহ ৬৭৪। কিন্তু ক্রিকেট যে শুধু রানের খেলা নয়। প্রভাব, পরিস্থিতি আর ম্যাচ জেতানোই বরং নির্ধারণ করে দেয়, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে।

এই জায়গাতেই সবার থেকে আলাদা হয়ে যান বিরাট। ২০২৫ সালে তাঁর ওয়ানডে পারফরম্যান্স ছিল নিখাঁদ আধিপত্যের উদাহরণ। ষাটের ঘরের গড়, শতকের কাছাকাছি স্ট্রাইক রেট, আর বারবার ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া বড় ইনিংস। বিপরীতে বাবরের খেলায় সেই ভয় ধরানো মাত্রাটা নেই।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link