চাপ? কিসের চাপ? মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে কোন চাপ ছুঁয়ে যেতে পারে না। যখনই তাকে ঘিরে সংশয়ের কুয়াশা জমতে শুরু করে, তখনই তিনি প্রবল প্রতাপের সূর্য হয়ে জবাব দেন। ফিফটি হাঁকিয়ে রংপুর রাইডার্সকে খাঁদের কিনারা থেকে টেনে তুললেন ‘দ্য সাইলেন্ট কিলার’।
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ হ্যাটট্রিক বল সামলাতে এলেন বাইশ গজে। পর পর দুই বলে নেই রংপুরের দুই উইকেট। মুহূর্তের মধ্যেই পরিকল্পনায় বিশাল আঘাত। তবে মাহমুদউল্লাহ স্নায়ুচাপ ধরে ইনিংস গড়ার দিকে মনোযোগ দিলেন। মির্জা তাহির বেগের হ্যাটট্রিক বলটা সামলে নিলেন অভিজ্ঞতার ঢাল দাঁড় করিয়ে।
একটা পর্যায়ে ১৫ বলে ছয় রান ছিল মাহমুদউল্লাহর। ঢাকা ক্যাপিটালসের বোলারদের সৃষ্টি করা চাপের বলয়ের ক্রমেই নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন রিয়াদ। এরপর ঠিকই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে চালিয়েছেন নিজের ব্যাট। সাইফ হাসানের তিন বলে টানা তিন চার হাঁকিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এরপর আর দলের উপর চাপ ঘনিভূত হতে দেননি। সাত চারে সাজানো ইনিংসটিতে তিনি দলকে লড়াকু পুজির দিকেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাসকিন আহমেদের ওভারে ব্যক্তিগত ফিফটি করেন তিনি ৪০ বলে। এরপর অবশ্য বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি। ৪১ তম বলটিতেই ঘটে তার ইনিংসের সমাপ্তি।
শুরুতে একটু বল খরচ করেছিলেন বলে দিনশেষে তার ইনিংসটি লাগছে সাদামাটা। কিন্তু প্রথম ১৬ বলের পর তিনি কিন্তু আগ্রাসন নিয়ে ব্যাটিংটা করে গেছেন। প্রায় ১৮০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট চালিয়েছেন তিনি, নিজের খেলা শেষ ২৫টি বলে। সুতরাং স্কোরকার্ডে ১২৪.৩৯ স্ট্রাইকরেট দেখে নাক শিটকানোর বিশেষ কারণ নেই।
হ্যাটট্রিক বল সামলাতে হয়েছে তাকে। দলের তিন উইকেট পড়ে গেছে। দলের রান স্রেফ ৩০। এমন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ইনিংস গড়ায় মনোযোগ হওয়ার বিকল্প ছিল না তার কাছে। কিন্তু যখনই বাইশ গজে তিনি সেট হয়ে গেছেন, তখন ঠিকই দলের প্রয়োজন মেটানোর দিকে অগ্রসর হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। বয়সের সাথে পরিস্থিতির জ্ঞানটাও নিশ্চয়ই বেড়েছে তার।












