খোদ রোহিত শর্মা ছিলেন তাঁর প্রিয় উইকেট। অথচ, সেই শফিউল ইসলামের বিদায়টা হল একদম নীরবে, নিভৃতে। হাজারো না পাওয়া আক্ষেপ আর অসংখ্য অভিযোগের গ্লানি নিয়ে।
শফিউলকে কেন মনে রাখা দরকার? – এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। বরং, তিনি কোনো ভুল না করলে একাদশে তাঁর থাকাটা যেন কোনো ভাবেই বোঝা যেত না।
১০ বছর জাতীয় দলে থাকলেও সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা ১০০ টির মাইলফলকও ছোঁয়নি। উইকেট পেয়েছেন ১০৭ টি। তবে, তাঁর আলাদা কোনো বিশেষত্ব ছিল না। তাই, বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টও তাঁকে খুব বেশি ব্যবহার করার সুযোগ পায়নি একদমই।

সব মিলিয়ে শফিউল ইসলাম সুহাস বাংলাদেশ ক্রিকেটের খুবই অদ্ভুত একটি চরিত্র। ইংল্যান্ডের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের ম্যাচে শেষ উইকেটটা নিয়েছিলেন। আবার দেশের মাটিতে ২০১১ বিশ্বকাপের মঞ্চে দলকে জেতান, এবার অবশ্য ব্যাট দিয়ে।
জাতীয় দল থেকে অসংখ্যবার বাদ পড়েছেন। অসংখ্যবার ফিরেও এসেছেন। তবে, তাঁর বাদ পড়া বা ফেরা কোনোটারই কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ফিরেও তিনি এমন কোনো কিছু করে দেখাতে পারেননি যে, শফিউলকে নিয়ে হাহাকার করা যায়।
ইংল্যান্ড বরাবরই শফিউলের প্রিয় প্রতিপক্ষ ছিল। ২০১০ সালে ব্রিস্টলে যেবার ইংল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ দল, সেবারও অন্যতম নায়ক ছিলেন শফিউলই। এবার অবশ্য তিনি যা করার বল হাতেই করেন।

সেদিন চার বলে জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের যখন মাত্র ছয় রান দরকার তখন গলার কাঁটা হয়ে থাকা জোনাথন ট্রটকে ফিরিয়ে দেন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে। ৯৪ রান করা ট্রট টিকে গেলে বাংলাদেশের জয় পাওয়াটা মুশকিল হত। সেবারই প্রথমবারের মত কোনো ফরম্যাটে ইংল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ।
আবার লিকলিকে গড়নের শফিউল খুবই ইনজুরিপ্রবণ। এর জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটেও তিনি নিয়মিত দল পাচ্ছিলেন না, পেলেও ম্যাচ পান না। যদিও, খুব বেশিদিন আগের কথা নয়, যেদিন খোদ ভারতের মাটিতেই তাঁর বিপক্ষে ব্যাটিং করতে গিয়ে ভুগতে হয়েছেন আধুনিক টি-টোয়েন্টির অন্যতম গ্রেট রোহিত শর্মাকে।
গেল বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) খেলেছেন। রাজশাহী কিংস দলে তাঁর অন্তর্ভূক্তি নিয়েই উঠেছিল প্রশ্ন। এমনকি সেবার ম্যাচগুলোতে তিনি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছিলেন বলেও শোনা যায়। সেসব অভিযোগ নিয়েই এবার ক্রিকেটটাকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়ে ফেললেন শফিউল। সঙ্গী হল ইংল্যান্ড আর রোহিত শর্মার বিপক্ষে সেসব সুখস্মৃতি।











