মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর দিনটা যেতে পারত বিমর্ষ। রান খরচে তিনিই তো ছিলেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। তবে শেষ অবধি তিনি রেকর্ডের পাতায় জুড়ে নিলেন নিজের নামটি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে হ্যাটট্রিক নামক অধ্যায়ে নতুন সংযোজন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।
ইনিংসের একেবারের শেষ ওভারে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের তিন ব্যাটারকে পরপর তিন বলে ফিরিয়েছেন তিনি। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিজের প্রথম উইকেট হিসেবে শিকার করেন মৃত্যুঞ্জয়। এরপরের বলে আউট জহির খান, এদফা নিজেই ক্যাচ লুফে নিলেন তিনি। নোয়াখালীর কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন বিলাল সামির উইকেট তুলে নিয়ে।
তাতে করে ১৫০ রানের ওই মনস্তাত্ত্বিক স্বস্তির আগেই গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। বিপিএল ইতিহাসে হ্যাটট্রিক উইকেট শিকারি বোলারদের তালিকায় দশম বোলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। অথচ দিনের শুরুটা হয়েছিল তার বেধম প্রহার হজম করে। নিজের করা প্রথম ওভারে ১৪ রান হজম করার পর, দ্বিতীয় ওভারে হজম করেন ২১ রান।

বাধ্য হয়ে তার ওভারগুলো জমিয়ে রাখেন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। দুই ওভারে ৩৫ রান হজম করা বোলারের হাতে বল তুলে দেওয়ার আগে দ্বিধার সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। কেননা এদিন দলের বাকি দুই পেসার, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানা ছিলেন বল হাতে দুর্ধর্ষ।
তবে ইনিংসের শেষ ওভারে এক প্রকার বাধ্য হয়েই মৃত্যুঞ্জয়ের হাতে বল তুলে দেওয়া হয়। এবার অবশ্য একেবারেই নিরাশ করেননি তিনি। যদিও সেই ওভারের দ্বিতীয় বলেই ছক্কা হাঁকান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। সেই অঙ্কনকে আউট করেই হ্যাটট্রিকের রাস্তায় হাটতে শুরু করেন মৃত্যুঞ্জয়।
এদিন অবশ্য রংপুরের আরও দুই বোলার হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন। মুস্তাফিজুর রহমান নিজের ছোড়া বলে হাসান মাহমুদের লো ক্যাচটা লুফে নিতে পারলেই হয়ত মৃত্যুঞ্জয়ের আগেই হ্যাটট্রিকের মালিক বনে যেতেন তিনি। এছাড়া পাকিস্তানি অলরাউন্ডার খুশদিল শাহও হ্যাটট্রিকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন, তিনিও হয়েছেন হ্যাটট্রিক বঞ্চিত। হ্যাটট্রিক ভাগ্য মৃত্যুঞ্জয়ের কপালেই যে লেখা ছিল!












