নাহিদের রকেটে পথভ্রষ্ট নোয়াখালী এক্সপ্রেস

পূর্ণ ছন্দে থাকা নাহিদের ভয়ানক রুপটাই দেখা গেল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এমন গতির মূর্ছনায় শেষ কবে হারিয়ে যাওয়া যেত?

১৫০ কিলোমিটার গতির বুক বরাবর বল। আতঙ্কেই উইকেট বিলিয়ে দিলেন হায়দার আলী, নিজের শরীরকে বাঁচাতে গিয়ে। ঠিক এমন গতির একটা বল লেগেছিল হাবিবুর রহমান সোহানের বাহুতে। তার চোটই ভয়কে দ্বিগুণ করেছে। আর সেই ভয়ের বলয় সৃষ্টি করেছেন নাহিদ রানা নিজের গতি দিয়ে।

গতিই শেষ কথা, একজন পেসারের গতিই তার পরিচয়। নাহিদ রানা নিজের সেই পরিচয় দিয়ে বাইশ গজে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করতে পটু। এদিন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটাররা টের পেয়েছে- কে সত্যিকারের এক্সপ্রেস গতির মালিক। নাহিদ রানা নিজের প্রথম ওভারেই ছোড়েন ১৫১ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টার বল। সেই ওভারে ১৫০ ছাড়িয়েছে দুইবার।

এরপর দ্বিতীয় ওভারে ১৪৫ কিলোমিটার গতির নিচে কোন বলই ছোড়েননি নাহিদ। তার গতিতে চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল সৌম্য সরকারের মত ব্যাটারের। ফাস্টহ্যান্ডে ব্যাটিংয়ের জন্য প্রসিদ্ধ সৌম্যর ব্যাটিংকেও মনে হয়েছে ধীরগতির। নাহিদের ছোড়া আগুনের গোলার সামনে যেন সবকিছুই থমকে যায়। চোখের পলক পড়া দূরত্ব ধ্বংসের ফ্ল্যাশব্যাক হয়।

এদিন তার বিরুদ্ধে তটস্থ থেকেও কোন কায়দা করতে পারেননি নোয়াখালীর ব্যাটাররা। নিজেদের শরীর বাচানোই হয়ে ওঠে ব্যাটারদের মূল চ্যালেঞ্জ। এমন দুর্ধর্ষ গতিতে নাহিদের ছোড়া রকেটগুলোর কোন প্রকার জবাবই ছিল না জাকের আলীদের কাছে। তার বিরুদ্ধে রান তুলতে ভীষণ কষ্ট হয়ে গেছে প্রত্যেকের।

চার ওভারে তার খরচ স্রেফ ১৭ রান। এর মধ্যে মাত্র একটি বাউন্ডারি আদায় করতে পেরেছেন হাবিবুর রহমান সোহান। এ ছাড়া ১১ খানা বলেই কোন প্রকার রান খরচ হয়নি নাহিদের। পূর্ণ ছন্দে থাকা নাহিদের ভয়ানক রুপটাই দেখা গেল সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এমন গতির মূর্ছনায় শেষ কবে হারিয়ে যাওয়া যেত?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link