ব্যাটে রান নেই, আত্মবিশ্বাস একেবারেই ঠেকেছে তলানিতে। তবে তাওহীদ হৃদয় সব ঝেড়ে ফেললেন অতিমানবীয় এক ইনিংসে। রানখরার মাঝে দাঁড়িয়ে আক্ষেপজড়িত ৯৭ রানের ইনিংসটা সমালোচনার আগুনে স্রেফ জল ঢেলে দিল, বুঝিয়ে দিল হৃদয় স্বমহিমায় ফিরলে দিনটা তাঁরই।
পজিশন বদল হলো হৃদয়ের। লিটন দাস নয়, কাইল মায়ার্সের সাথে ওপেনিংয়ে দেখা গেল তাকেই। রান পাচ্ছিলেন না, আত্মবিশ্বাস তলানিতে ঠেকেছিল। তাই তো ওপেনিংয়ে নেমে। উদ্দেশ্য পাওয়ার প্লেটটা কাজে লাগানো। করলেনও তাই। ইনিংসের প্রথম ওভারের তিন বলেই তিন চার হাঁকিয়ে জানান দিলেন দিনটা হতে যাচ্ছে তাঁর।
একপাশে সতীর্থদের চলে যাওয়া দেখলেন, তবে নিজের উইকেট আগলে রাখলেন। সময় গড়ানোর সাথে সাথে উইকেটের আচরণ বদলে গেল। বল-ব্যাটের মাঝে কোন সঙ্খতা ছিল না। কঠিন সময়েও নিজের উপর বিশ্বাস হারালেন না হৃদয়।

ফিফটি পর্যন্ত নিজেকে সংযত রাখলেন। তবে এরপরই যেন রীতিমতো টর্নেডো বইয়ে দিলেন সিলেটের আকাশ জুড়ে। কখনো মিড উইকেটের উপর দিয়ে, কখনো লং অন আবার কখনো এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে হেলিকপ্টার শট। আসরের অন্যতম সেরা ডেথ ওভার বোলার রিপন মন্ডলকে উপহার দিলেন ভুলে যাওয়া মতোই একটা দিন।
একটা সময় আশঙ্কা ছিল হৃদয়ের তিন অঙ্ক ছোঁয়া হবে তো। শেষমেষ সেই আশঙ্কাটাই সত্যি হলো। অনেকটা খুশদিল শাহর স্বার্থপর ইনিংসের জন্য হৃদয়কে তিন রানের আক্ষেপে পুড়তে হলো শেষপর্যন্ত। নামের পাশে হার না মানা ৫৬ বলে ৯৭ রানের নক। আট চার আর ছয় ছক্কায় সাজানো ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৭৩।
সামনেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তবে হৃদয়ের ব্যাটে রান ছিল। যা নিয়ে সমালোচনা তো হচ্ছিলই, সাথে বাংলাদেশের জন্য বাড়াচ্ছিল বড় দুশ্চিন্তা। এমন পরিস্থিতিতে হৃদয়ের একটা কিক দরকার ছিল। রাজশাহীর বিপক্ষে এই ইনিংসটা তাই হৃদয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সাথে সাথে একটা স্বস্তির সুবাতাস ছড়িয়ে দিল।

Share via:











