ক্রিকেট খেলাটা এখন শুধু মাঠেই হয় না, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও চলে তুমুল লড়াই। জেতার পর দলগুলো ব্যান্টার পোস্ট করে, প্রতিপক্ষের জন্য যা খোঁচা স্বরূপ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) এটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে সবকিছুর একটা সীমা থাকে। ব্যান্টার পোস্ট দেওয়ার সাথে এটাও খেয়াল রাখতে হয়, প্রতিপক্ষের সম্মানটা যেন অক্ষুণ্ণ থাকে। তবে এখানে এসেই যত সমস্যার উৎপত্তি। এক কথায় বলতে গেলে কমন সেন্সের অভাব রয়েছে বিপিএলের কিছু দলগুলোর সোশ্যাল মিডিয়া টিমের মধ্যে।
একটু পেছনে ফিরে যাওয়া যাক। ২০২৪ সাল থেকে মূলত সবার নজরে আসতে থাকে এই ব্যান্টার পোস্ট। যার নেপথ্যে ছিল বিপিএলের দুই রাইভাল দল রংপুর রাইডার্স এবং ফরচুন বরিশাল। রংপুরই মূলত সূচনাটা করেছিল, বরিশালও সম্মান রেখেই জবাবটা দিত।
‘বরিশালের লঞ্চে ধাক্কা আতঙ্কে যাত্রীরা’, ‘পোস্ট ডিলিট করো সমস্যা হবে’ কিংবা হেরে যাওয়ার পর বলেছে, ‘ঘিরে লিয়েছে মামুর ব্যাটাররা, পঁচা শামুকে কেটেছে পা।’ এমন সব পোস্ট দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান রেখে তারা আবার বলেছে, ‘শত্রু না প্রতিপক্ষ, লড়াইটা মাঠের কিন্তু পরষ্পরের প্রতি সম্মানটা সার্বজনিন, সবসময়ই।’

যা ক্রিকেট মাঠের বাইরে গিয়ে বেশ আলোড়ন তোলে সবার মনে। তাদের দেখাদেখি বাকি দলগুলোও এই ট্রেন্ড ফলো করা শুরু করে। এটা দোষের নয় বরং ইতিবাচকই বটে। এরপর থেকেই বিপিএল জুড়ে ব্যান্টার পোস্ট এক বাড়তি আকর্ষণ।
সমস্যাটা হয় তখনই, যখন এই হাসির খোরাক ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে চলে যায়। এ বছরের বিপিএলে এসে সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে কিছু দলগুলো। সবচেয়ে দৃষ্টিকটু লেগেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পোস্টগুলো। রংপুর রাইডার্সের ইফতিখার আহমেদ আউট হওয়ার পর তারা লিখেছে, ‘চাচার বয়স হয়েছে, আর পারে না, দুর্বল।’ নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে লিখেছে, ‘বড়লোকের ৩৬০ ডিগ্রি দক্ষিণ আফ্রিকায়, গরিবেরটা রাইডার্সের প্যাভিলিয়নে।’ এসব একেবারেই ব্যক্তিগত আক্রমণ।
এর আগে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে হারানোর পর চট্টগ্রাম রয়্যালসও অযাচিত সব শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়ে ব্যান্টার পোস্ট করে, যা একেবারেই নিন্দনীয়।

তবে এর আগে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতা ছিল। রংপুর, বরিশালের ব্যান্টার পোস্টগুলোতে কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণের বিষয় সামনে আসেনি। রাইভালরি থাকলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা প্রতিপক্ষকে হেয় প্রতিপন্ন করার মতো নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড চোখে পড়েনি। বরং দিনশেষে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে, প্রতিপক্ষ ভালো করলে অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
বরিশাল এবারের বিপিএলে নেই। রংপুর রাইডার্স নিজেদের ধারা বজায় রেখেছে এবারও। তবে বাকি দলগুলো কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতিই তৈরি করছে। যা মোটেও শোভনীয় নয়। যা দেখে দিনশেষে একটা কথায় বলা যায়, অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভালো না।











