বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের তিন সমস্যা!

আরও এক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের সামনে আরও একটা সুযোগ ব্যর্থতার গল্পে ইতি টানার। বড় মঞ্চে বরাবরই ব্যর্থ বাংলাদেশ, এই তকমা ঘোচানোর হাতছানি এবারের বিশ্বকাপ। তবে পথ যে সহজ নয়। লিটন দাসদের সামনে যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভীতিকর কিছু সমস্যা।

আরও এক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের সামনে আরও একটা সুযোগ ব্যর্থতার গল্পে ইতি টানার। বড় মঞ্চে বরাবরই ব্যর্থ বাংলাদেশ, এই তকমা ঘোচানোর হাতছানি এবারের বিশ্বকাপ। তবে পথ যে সহজ নয়। লিটন দাসদের সামনে যে বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ভীতিকর কিছু সমস্যা।

  • মিডল অর্ডার নিয়ে দুশ্চিন্তা

২০২৫ সালে বাংলাদেশ খেলেছে ৩০ ম্যাচ, এর মধ্যে জিতেছে ১৫টি। পরিসংখ্যানের বিচারে যা বাংলাদেশের জন্য সেরা বছর। এমনকি বছরজুড়ে প্রায় ১২৬ স্ট্রাইক রেটে রান তুলেছে বাংলাদেশ, যা যেকোনো বারের তুলনায় সর্বোচ্চ। এসব কৃতিত্ব অবশ্য কেবল টপ অর্ডার ব্যাটারদের। মিডল অর্ডার যে একেবারেই ছিল ছন্নছাড়া। সারা বছর টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করেছে বাংলাদেশের মিডল অর্ডার। যা উদ্বেগ জাগাচ্ছে বিশ্বকাপের আগে।

অবশ্য এখানে পরীক্ষিত ব্যাটার বলতে ছিলেন কেবল তাওহীদ হৃদয়। সোহান, শামীম কিংবা জাকের, অঙ্কনদের ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলানোর চেষ্টা করা হয়েছে ঠিকই। তবে প্রত্যাশার ছিটেফোঁটাও মেটাতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপের আগে যা বাড়াচ্ছে বড় রকমের দুশ্চিন্তা। বাংলাদেশ দলে টপ অর্ডারের আধিক্য বেশি। মূল দায়িত্ব সেই হৃদয়ের কাঁধে। তিনি নামবেন পাঁচ নম্বরে। ছয়ে শামীম, সাতে নুরুল হাসান সোহান। তবে চার নম্বরে কে?

এখানেই যত জটলা। ওপেনিংয়ে তানজিদ তামিমের জায়গা পাকাপোক্ত হলেও অপর প্রান্তে রয়েছে তিন নাম। পারভেজ হোসেন ইমন, সাইফ হাসান এবং লিটন দাস। এক, দুই, তিন, চার, এই পজিশনগুলোতে তাই এরাই থাকছেই, সেটা প্রায় ফিক্সড। তবে ইমনকে সম্ভবত চারেই দেখা যেতে পারে। সেভাবেই তৈরি করা হচ্ছে তাঁকে।

ঘুরে-ফিরে অবস্থাটা তাই একই দাঁড়াচ্ছে। মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটার ওই হৃদয়ই। সোহান ফর্মহীনতায় ভুগছেন, শামীম যেকোনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন, তবে ধারাবাহিকভাবে তাঁর থেকে রান পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। আর ইমন যদি চারে খেলেন, ব্যর্থ হলেও গোটা দলকেই খেসারত দিতে হবে। তাই তো এবারও মিডল অর্ডারের দুর্বলতা নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

  • দুশ্চিন্তার অপর নাম সাইফ হাসান

এশিয়া কাপে রীতিমতো আলোড়ন তুলেছিলেন সাইফ হাসান। অল্প কদিনে বাংলাদেশের ব্যাটিং স্তম্ভ ভাবা হচ্ছিল তাঁকে। তবে শেষ কিছুদিন যেন শূন্যে মিলিয়ে গেছে তাঁর ফর্ম। যার শুরুটা গত বছরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে।
শেষ ছয়টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁর রান মাত্র ৮৩। সুযোগ ছিল বিপিএলে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়ার, তবে সেখানেই যেন ব্যর্থতার চরম পর্যায় দেখছেন সাইফ। সাত ম্যাচে খেলে করেছেন ৪৮ রান। ব্যাটিং গড় সাতের নিচে, স্ট্রাইক রেট মাত্র ৭২। বিশ্বকাপের আগে দলের সহ-অধিনায়কের এমন ফর্ম নিশ্চয়ই ভয় জাগাচ্ছে সবার মনে।

  • সাম্প্রতিক পরিস্থিতির চাপ

বিশ্বকাপের বাকি তিন সপ্তাহের মতো, এখনও বাংলাদেশ জানে না তারা আসলে খেলবে কি না, খেললেও কোথায় খেলবে। এই পরিস্থিতি খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর যদি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যেতে হয়, চাপটা তখন আরও বেশি হয়ে দাঁড়াবে। সব মিলিয়ে দোলাচল, মানসিক প্রস্তুতির অভাব আর বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার আগে পারিপার্শ্বিক নাটকীয়তা দলগত পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলতে পারে।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link