রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের সাফল্যের রহস্য!

যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসরে সবচেয়ে শক্তিশালী দল কোনটি? উত্তরে অনেকেই বলবেন রংপুর রাইডার্স। তবে একটু ঘুরিয়ে প্রশ্নটা যদি করা হয়, কোন দল পরিকল্পনার দিক দিয়ে শক্তিশালী? উত্তরটা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

যদি প্রশ্ন করা হয়, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের আসরে সবচেয়ে শক্তিশালী দল কোনটি? উত্তরে অনেকেই বলবেন রংপুর রাইডার্স। তবে একটু ঘুরিয়ে প্রশ্নটা যদি করা হয়, কোন দল পরিকল্পনার দিক দিয়ে শক্তিশালী? উত্তরটা রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।

নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে রাজশাহী লিগ পর্ব শেষ করেছে সবার উপরে থেকে। শুধু তাই নয়, ১০ ম্যাচের মধ্যে আটটিতেই জয় পেয়েছে তারা। যে দুটো ম্যাচ হেরেছে, সেখানেও লড়াইয়ের ছাপ রেখে গেছে। আসরের সবচেয়ে ধারাবাহিক দল তারাই। তাদের এই সাফল্যের রহস্য আসলে কি?

এককথায় বললে উত্তর হবে, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা। আসর শুরুর আগে থেকে, আরও সহজ করে বললে, নিলাম থেকে রাজশাহী পা ফেলেছে হিসাব-কষে। নামজাদা তারকা নয়, দলে চায় ভারসাম্য। এমন মন্ত্রবলেই দল গঠন করেছে তারা। যেসব খেলোয়াড় ভালো ফর্মে রয়েছেন, তাদেরই দলে ভেড়ানো হয়েছে। রিপন মন্ডল, কিংবা আব্দুল গাফফার সাকলাইন তার উদাহরণ।

তারুণ্যে ভর করে কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া সহজ নয়, অভিজ্ঞতা চায়। দলে তাই টানা হয়েছে বিপিএলের সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচ খেলা মুশফিকুর রহিমকে। ফলাফল, অনেকগুলো ম্যাচই এই বুড়ো ঘোড়া বের করে দিয়েছে।

বিদেশিদের দলে ভেড়াতেও সুদূরপ্রসারী চিন্তা করে রেখেছিল রাজশাহী। কারা কখন আসবেন, চলে যাবেন তা মাথায় রেখেই দল সজানো হয়েছে। এছাড়াও কারা ইমপ্যাক্টফুল সময়ের বিবেচনায় তাদেরই নেওয়া হয়েছে দলে। এমনকি রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যাকআপ। উদাহরণস্বরূপ, শাহিবজাদা ফারহান জাতীয় দলের ডাকে চলে যাবেন জেনে শূন্যতা পূরণে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ভেড়ানো হয়েছিল দলে।

রাজশাহীর সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট দলের একতা আর বিশ্বাস। একটা ম্যাচ কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে যাবে, একটা দল হয়ে খেলতে হবে। এমনটাই ছিল তাদের পরিকল্পনার অংশ। সেই সাথে কোচ হান্নান সরকার আর শান্তর রসায়নটা বাড়তি শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। ফলাফল, কোয়ালিফায়ারে নাম লিখিয়েছে, আর একটা ম্যাচ জিতলেই ফাইনাল শিরোপা থাকবে হাতছোঁয়া দূরত্বে।

তবে এখনই যে সবটা শেষ নয়, আসল কাজ সবে শুরু। তাই তো শেষ পরিকল্পনার ছক সাজাতে হবে। দলে কার্যকরী খেলোয়াড় আছে, এবার চায় বড় মঞ্চের পারফর্মার। তাই কেন উইলিয়ামসনের শরণাপন্ন হয়েছে দলটি। সব ঠিকঠাক থাকলে প্রথমবারের মতো আসবেন তিনি। সবমিলিয়ে দাঁড়াচ্ছে, রাজশাহী দলটিতে সবকিছুই আছে, অভিজ্ঞতা, কার্যকারীতা আর ভারসাম্য। এ কারণেই তো দলটা একটু বিশেষ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link