শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ ফুটসাল দল

প্রথম জয়ের পর থেকে যেন আত্মবিশ্বাস টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটসাল দলের। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে তারা বড়সড় ব্যবধানে।

প্রথম জয়ের পর থেকে যেন আত্মবিশ্বাস টইটুম্বুর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটসাল দলের। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে তারা বড়সড় ব্যবধানে। কানাডা প্রবাসী অধিনায়ক রাহবার খানের দারুণ নৈপুন্যে সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশীপে বাংলাদেশ পেয়েছে নিজেদের দ্বিতীয় জয়। রাহবার একাই তিন গোলে রেখেছেন অবদান। নিজে করেছেন দুইটি, সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও একটি গোল।

সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশীপে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচ বাংলাদেশ খেলতে নামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আগের ম্যাচে ভুটানকে ৪-১ গোল ব্যবধানে হারানোর পর এদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যবধান আরও খানিকটা বাড়িয়ে, নিজেদের দাপট অক্ষুন্ন রাখল বাংলাদেশের ছেলেরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এদিন গোলের খাতা খোলেন অধিনায়ক রাহবার খান।

একক প্রচেষ্টায় বা-পায়ের শটে গোল আদায় করেন রাহবার। এরপর অবশ্য শ্রীলঙ্কা ফেরে সমতায়। গোলরক্ষক জাহিদ হাসান রাব্বির করা ফাউলে ফ্রি-কিক পায় শ্রীলঙ্কা। গোলবারের সামনে দাঁড়ানো ওয়ালের ফাঁক গলে বল চলে যায় জালে। তবে অর্ধ শেষের বাশি বাজার আগেই বাংলাদেশ নিজেদের লিড বাড়িয়ে নেয়।

আবার স্কোরশিটে নাম তোলেন রাহবার খান। ২-১ গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। বিরতি থেকে ফিরে নিজেদের ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। এদফা রাহবার খানের বাড়ানো বলে নিয়মিত গোল করার ধারা অব্যাহত রাখেন মঈন আহমেদ। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে পাঁচ গোল করেছেন মঈন।

বেশ পিছিয়ে যখন শ্রীলঙ্কা আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেয় তখনই কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ কাজে লাগান তাজওয়ার বিন কাশেম নিটোল। পাওয়ারফুল শটে লক্ষ্যভেদ করেন তরুণ এই ফুটসাল খেলোয়াড়। তাতে করে এবারের সাফে প্রথমবারের মত স্কোরশিটে নাম তোলেন নিটোল।

তারপর বাকি থাকা সময়ে গোলের জন্য মড়িয়া হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। নিজেদের গোলপোস্ট ছেড়ে গোলরক্ষকও চলে যান আক্রমণভাগে। এমন এক আক্রমণে বল পায়ে পান আবির হোসেন। দূরপাল্লার শটে তিনিও গোল আদায় করে নেন। এর আগে অবশ্য রাহবারও একই কাজ করেছিলেন, কিন্তু অল্পের জন্য তার হ্যাটট্রিক মিস হয়। নতুবা স্কোরলাইন আরেকটু বড় হলেও হতে পারত।

৫-১ ব্যবধানের বড় জয়ে, বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন সাত। টেবিলের দুই নম্বর স্থানে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচে নয় পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে মালদ্বীপ। বলে রাখা ভাল, এই টুর্নামেন্টে রাউন্ড রবিন লিগ শেষে, শীর্ষে থাকা দল হবে চ্যাম্পিয়ন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link