টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাস বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক নাম ,স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। প্রায় ১০০ গড়, অজস্র রেকর্ডের নিমিত্তে তিনি অমর এক কিংবদন্তি। তবে একটা মিথ প্রচলিত আছে যে, টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি গড় ব্র্যাডম্যানের। কিন্তু বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টিপাত করলে পরিলক্ষিত হয় অন্য কারও নাম। অ্যান্ডি গ্যান্টোম।
১৯২১ সালের ২২ জানুয়ারি। ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনের বেলমন্টে জন্ম অ্যান্ড্রু গর্ডন গ্যান্টোমের। যিনি পরিচিত ছিলেন অ্যান্ডি গ্যান্টোম নামে। ১৯৪০-৪১ মৌসুমে ত্রিনিদাদের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক। উইকেটকিপার ব্যাটার হিসেবে ৫০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে তিনি করেন ২,৭৮৫ রান, গড় ৩৪.৮১। হাঁকিয়েছেন পাঁচটি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফসেঞ্চুরি।
গ্যান্টোমের ক্রিকেটজীবনের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তটি আসে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তাঁর। অভিষেক ম্যাচেই ওপেনার হিসেবে ব্যাট করতে নেমে ১৩টি চারের সাহায্যে খেলেন দুর্দান্ত ১১২ রানের ইনিংস।

এই এক ইনিংসই হয়ে ওঠে তাঁর পুরো টেস্ট ক্যারিয়ার। এরপর আর কোনো দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা যায়নি তাঁকে। অথচ এই এক ম্যাচই তাঁকে এনে দেয় ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর এক রেকর্ড – তাঁর ব্যাটিং গড় দাঁড়ায় ১১২, যা ডন ব্র্যাডম্যানের ৯৯.৯৪ এরও ওপরে।
আজও প্রশ্ন রয়ে যায়, অভিষেকে সেঞ্চুরি করা একজন ব্যাটার কেন আর কখনো সুযোগই পেলেন না? সেই সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে ছিলেন ওয়ালকট, ওরেল, উইকস, সোবর্স, কানহাইয়ের মতো তারকারা। এছাড়া সমালোচনার সুরও ছিল যে, সেঞ্চুরির কাছে গিয়ে গ্যান্টোমের ব্যাটিং গতি কমে যাওয়ায় দল জয়ের সুযোগ হারিয়েছিল কি না।
তবুও ইতিহাস যেন নির্মম হলেও নিরপেক্ষ। অ্যান্ডি গ্যান্টোম খেলেছেন মাত্র একটি টেস্ট, কিন্তু সেই এক ম্যাচেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটের পরিসংখ্যানের শীর্ষে নিজের নাম লিখে গেছেন স্বর্ণাক্ষরে।











