নেইমার মাত্রই ফুটবল ইতিহাসের পাতায় এক আক্ষেপ ও হতাশার নাম। যেই নামটির যোগ্যতা ও দক্ষতা ছিল মেসি কিংবা রোনালদোর সাথে সমস্বরে উচ্চারিত হওয়ার, অদৃষ্টের পরিহাসে সেই নামটিই আজ জন্ম দিয়েছে শত সহস্র দুঃখ ও গ্লানির।
নেইমারের যাত্রাটা শুরু হয় সান্তোসে। অল্প বয়সেই নিজের অনন্য ফুটবল দক্ষতা দিয়ে বিশ্বের বুকে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। ২৩ বছরের আগেই জিতেন একের পর এক শিরোপা, ফুটবলকে রূপ দেন এক উপভোগ্য শিল্পে। তার খেলায় ছিল পুরনো দিনের ব্রাজিলের সেই চিরচেনা নান্দনিকতা, সাহসিকতা আর আনন্দ।
বার্সেলোনায় গিয়ে মেসি ও সুয়ারেজের সাথে গড়ে তোলেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক আক্রমণভাগ। ২০১৫ সালের ট্রেবলে সে ছিল যেন গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র। কিন্তু ২২২ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড ট্রান্সফারে পিএসজিতে যাওয়ার পর শুরু হয় পতন। স্থানীয় সাফল্য থাকলেও চোট, শৃঙ্খলাহীনতা, কেলেঙ্কারি আর অস্থিরতা তাকে পূর্ণতা পেতে দেয়নি।

ইউরোপ অধ্যায় শেষ হয়ে নেইমার যান সৌদি আরবে, আল-হিলালে। বিশাল অর্থের চুক্তি হলেও মাত্র তিন ম্যাচেই টানতে হয় ইতি। চোটই বলে দিয়েছিল শেষ কথা। চুক্তি বাতিল হয়, আর নেইমার ফিরে আসেন শৈশবের ক্লাব সান্তোসে, ২০২৫ সালে।
সান্তোস তখন আবার ছিল অবনমনের মুখে। নেইমার এসে যেন নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটালেন। ছেঁড়া মেনিস্কাস নিয়েও নেমেছেন মাঠে, উপেক্ষা করেছেন চিকিৎসকদের নিষেধাজ্ঞা। ফলস্বরূপ শেষ পাঁচ ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ে বাঁচিয়েছেন গোটা দলকেই। এই সময়ে তার অবদান চার গোল, এক অ্যাসিস্ট, কাঁধে ছিল নেতৃত্বের গুরুদায়িত্বটাও।
জাতীয় দলের গল্পে ফিরলে সেখানেও নেইমারের গল্প টা যেন হতাশার কালিতেই লিখা। ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপ, ২০১৬ অলিম্পিক স্বর্ণ, সর্বোচ্চ গোলদাতা সবই আছে। কিন্তু নেই বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি।

২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হার, বিশ্বকাপে একের পর এক হৃদয়ভাঙা গল্প। ২০১৪ এর চোট, ২০১৮ তে বেলজিয়ামের বিপক্ষে হার, ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকার। সর্বপরি আক্ষেপটা যেন আর ঘোচানো যায় নি।
শেষবারের মতো ব্রাজিলের জার্সি গায়ে জড়ানোর গল্প বলতে গেলে ফিরে যেতে হবে সেই ২০২৩ সালে। ইঞ্জুরি বাস্তবতায় ফেরা হয় নি আর। কিন্তু বর্তমানে নেইমার আবার চোট কাটিয়ে উঠছেন। কোচ কার্লো আনচেলত্তি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ফিট থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপে আরও একটি বারের মতো চিরচেনা হলুদ আঙিনায় দেখা মিলবে নেইমির।
৩৪ বছরে পা দেওয়ার আগে প্রশ্নটা তাই একটাই নেইমার কি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা মুছতে পারবেন, ব্রাজিলকে এনে দিতে পারবেন কাঙ্ক্ষিত একটি বিশ্ব ট্রফি?











