হোসে মরিনহো, ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’! যার একটি ইশারায়, একটি দিকনির্দেশনা বদলে যেতে পারে সবকিছু। যার দেখানো পথে হাঁটলে নিহিলিস্ট পেঙ্গুইনের মত ধ্বংসের পথ বেছে নিতে হয় না। আশার কিঞ্চিৎ আলোকেও তিনি বানিয়ে ফেলতে জানেন সুবিশাল সূর্য। সবাই যখন বিদায় ভেবে নিয়েছিল, তখন কেবল হোসে মরিনহো বিশ্বাস রেখেছিলেন। আর বিশ্বাসই পর্তুগীজ ক্লাব বেনফিকাকে দিয়েছে নতুন লাইফলাইন।
কে জানত, আনাতোলি ট্রুবিন গোলবার ছেড়ে এলেই বদলে চোখের পলকে বিদায় বদলে হয়ে যাবে নতুন চান্স? কেউ জানত না, হতেও পারত ঠিক তার উল্টো। তবে হোসে মরিনহো ঝুঁকি নিলেন। আর সেই ঝুঁকিই তো বনে গেল এক রুপকথা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অধিপতি রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে টুর্নামেন্টে টিকে রইল বেনফিকা।
অথচ এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শুরুর চার ম্যাচে দলটার পয়েন্ট ছিল শূন্য। ব্রুনো লাজকে সরিয়ে বেনফিকা হোসে মরিনহোকে দায়িত্ব দেয়, চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে হারার পরই। হোসে এসেও মুহূর্তে বদলে ফেলেননি ভাগ্য। তিনি তো আর জাদুকর নন। তিনি স্পেশাল ওয়ান, ধ্বংসস্তুপ থেকে জাগিয়ে তোলা ফিনিক্স পাখির গান।

রিয়াল মাদ্রিদের সাথে সমীকরণের ম্যাচে, জিতলেও ছিটকেই যেত দল। ম্যাচের তখন মিনিট পাঁচেক বাকি। সেই মুহূর্তে জানা গেল, নওরেজিয়ান ক্লাব বোডো গ্লিমন্ট হারিয়ে দিয়েছে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে। অতএব, ২৪ স্থানটা পেতে হলে পেছনে ফেলতে হবে অলিম্পিক মার্শেইকে।
কিন্তু সেজন্য যে বাকি থাকা সময়টুকুতে আরও একটি গোল করতে হবে, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে তিন গোল পাওয়াও তো ভীষণ কষ্টসাধ্য কাজ, গোলবারে দাঁড়িয়ে আবার থিবো কর্তোয়া। সব শেষ, আশা-ভরসা টিকটক টিকটক করতে থাকা সময়ের গহ্বরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। একেবারে অন্তিম লগ্ন। মাদ্রিদের ডি-বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক। হোসের ইশারায় ট্রুবিন গেলেন ডি-বক্সের ভেতরে।
ড্র করলেও বাদ, ৩-২ গোলে জিতলেও বাদ। বাজিটা তাই ধরতেই হতো। নয় জনের রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে, দশজনের নিউমেরিকাল অ্যাডভান্টেজটাই নিতে চেয়েছিলেন হোসে মরিনহো। তিনি বিশ্বাস রেখেছিলেন কিছু একটা হবে। কিছু একটা না স্রেফ, রচিত হল রুপকথা। যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতে রিয়ালের রুপকথায় অভ্যস্ত দুনিয়া, সেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের রাতে রিয়ালের বিপক্ষে এবার লেখা হল ‘ফেরি টেইল’।

গোল করলেন আনাতোলি ট্রুবিন। সে যেন এক অপার্থিব গোল! হোসে মরিনহো দৃঢ় চিত্তে মুখের কোণে হাসি নিয়ে দেখলেন সবটা। নিজেকেই হয়ত তিনি বলছিলেন, ‘সাধে কি লোকে আমাকে স্পেশাল ওয়ান বলে?’ তখন লিসবনের ওই মাঠে আনন্দের হিল্লোল, অবিশ্বাসের প্রবল স্রোত। সব কিছু যেন ম্যাজিক্যাল। হোসে মরিনহো তবে কি ম্যাজিকও জানেন?











