একপাশে দুরন্ত একাদশের ব্যানারে অনুশীলন করছে বাংলাদেশের হাই পারফরমেন্স ইউনিট। প্রস্তুত হচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের জন্য। ঠিক তাদের পাশেই আরও একজন প্রস্তুত হচ্ছেন। তবে তার হাতে লাল বল, গায়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অনুশীলন জার্সি। তার সুযোগ মেলেনি অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের কোনো দলে।
অথচ এই হাসান মুরাদ এই তো ক’দিন আগে খেলেছেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফাইনাল। সেখানে রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে চ্যাম্পিয়ন বানানোর ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন বা-হাতি এই স্পিনার। তিনটি উইকেট শিকার করে ম্যাচে মোমেন্টাম নিজেদের পক্ষে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। এমন একজন বোলারের জায়গা হয়নি অভিভাবক বিসিবির আয়োজিত টুর্নামেন্টে।
শুধু হাসান মুরাদ নন, সুযোগ না পাওয়াদের তালিকাটা চাইলেই অনেক বড় হতে পারে। সবাইকে সুযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, সে বাস্তবতাও মেনে নিতে হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন ১৩ জন খেলোয়াড়ের স্কোয়াড দেওয়া হল? যেখানে ইম্প্যাক্ট সাব-সহ মোট ১২ খেলোয়াড়ই মাঠে নামার সুযোগ পাবেন, সেখানে নিদেনপক্ষে ১৫ জনের স্কোয়াড তো চাইলেই সাজানো যেত।

স্কোয়াডে থাকা ১৩ জন খেলার সুযোগ পাবেন না, এ কথাও সত্য। কিন্তু মাঠে নামতে পারাটাই কি শেষ কথা? ঘরোয়া ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলো রয়েছে নানামুখী অনিশ্চয়তার মধ্যে। প্রথম বিভাগ খেলা খেলোয়াড়দের চলছে প্রায় অবসর সময়। অন্তত যাদেরকে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ভাবা হচ্ছে, তাদেরকে যথাযথ সুযোগ তো দেওয়া উচিত।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না জাতীয় দল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যেন মাঠ বিমুখ না হয়ে পড়েন, জড়তা যেন তাদের মধ্যে চলে না আসে- সে ভাবনা থেকেই আয়োজিত হচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তিনটি দল গড়া হয়েছে, একটি জাতীয় দল একটি বাংলাদেশ ছায়া দল, আরেকটি হাই পারফরমেন্স ইউনিটে থাকা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া দল।
এই দলগুলোতে আরো দুইজন করে খেলোয়াড় যুক্ত হলে, নিদেনপক্ষে আরো ছয়জন খেলোয়াড় থাকতেন পরিচর্যার বৃত্তে, অনুশীলনের বলয়ে। তাতে করে তো আখেরে বৃহৎ চিত্রে বাংলাদেশেরই লাভ হতো। ছয়জন অতিরিক্ত খেলোয়াড় সুযোগ পেতেন নিজেদের স্কিল ঝালিয়ে নেওয়ার। কিন্তু সেখান থেকেও বঞ্চিত হলেন। হাসান মুরাদ সেই বঞ্চিতদের তালিকায় হয়ত উপরের দিকেই থাকবেন।

দিনশেষে এই টুর্নামেন্ট নিছকই এক দায়সারা আয়োজনের তকমা পেয়ে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। লোকদেখানো বিভ্রম সৃষ্টি করে, স্রেফ সময়টা পার করতে চাইছে বিসিবি। সঠিক পরিকল্পনা নেই, দূরদর্শি চিন্তাভাবনা নেই- কোন মতে জগাখিচুড়ি রান্না হলেই হল।











