হাসারাঙ্গা-রশিদদের সামনে সাকিবকে টপকানোর চ্যালেঞ্জ

এবার সাকিব আল হাসানও নেই, বাংলাদেশও নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বিশ্বকাপের তালিকায় সবার উপরে এখনও সাকিবের নামটি জ্বলছে বর্ণিল দ্যুতি ছড়িয়ে।

এবার সাকিব আল হাসানও নেই, বাংলাদেশও নেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। তবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের বিশ্বকাপের তালিকায় সবার উপরে এখনও সাকিবের নামটি জ্বলছে বর্ণিল দ্যুতি ছড়িয়ে। সেই ২০০৭ থেকে শুরু, এরপর একটানা নয়টি আসরেই অংশ নিয়েছিলেন সাকিব। এই পুরো সময় জুড়েই তিনি ছিলেন কার্যকর অলরাউন্ডার। যার কার্যকারিতা প্রমাণ হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় চোখ বুলালে।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বাধিক ম্যাচে মাঠে নেমেছেন সাকিব। প্রথম স্থানটা এদিক থেকে অবশ্য ভারতের রোহিত শর্মার দখলে। ৪৩ খানা ম্যাচে সাকিব প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলাদেশের। এই ৪৩টি ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৫০টি। সর্বশেষ আসর, অর্থাৎ ২০২৪ সালের বিশ্বকাপটা বেজায় খারাপ না কাটলে সংখ্যাটা আরও খানিকটা বাড়ত নিঃসন্দেহে।

নবম আসরে তিনি স্রেফ তিনটি উইকেট শিকার করেছেন। তবুও অ্যাকটিভ খেলোয়াড়দের উইকেট সংখ্যার সাথে এখনও বেশ খানিকটা ফারাক রয়ে গেছে। শ্রীলঙ্কার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও আফগানিস্তানের রশিদ খান, এই দুই লেগস্পিনারের পক্ষে সম্ভব সাকিবকে টপকে যাওয়া। সে জন্য অবশ্য তাদেরকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শিকার করতে হবে নিদেনপক্ষে ১৪টি উইকেট।

কাজটা মোটেও সহজসাধ্য নয় বটে। পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি, শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গা- এরা কেউই সাকিবের সাথে পাল্লা দিয়ে পারেননি। আফ্রিদির ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৩৯ উইকেট নিয়ে, মালিঙ্গার ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৩৮। ঠিক এতটাই কার্যকর ছিলেন সাকিব।

বলে রাখা ভাল, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট শিকারির তিনজনই বোলার। যদিও একপ্রকার জোর করেই হাসারাঙ্গা কিংবা রশিদকে বলা হয় অলরাউন্ডার। যে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জোরে তাদেরকে অলরাউন্ডার তালিকায় ঠেলে দেওয়া হয়, সে নিরিখে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে অনায়াসে বলা যেতে পারে পুরোদস্তুর অলরাউন্ডার।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হাসারাঙ্গা ও রশিদের সামনে একটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে শীর্ষে ওঠার। অন্তত তারা দুইজন যে টপ থ্রি-তে প্রবেশ করে যাবেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। তবে সাকিবকে টপকানোর জন্য এই বিশ্বকাপই যথেষ্ট হয় কিনা- তা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু সাকিবকে সেরা পাঁচ থেকে ঠেলে নামাতে বাকিদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link