মাটি অচেনা হলেও জার্সিটা এখন আপন

ক্রীড়া জগতে নাগরিকত্ব বদলে অন্য দেশের হয়ে খেলার ঘটনা নিতান্তই নতুন নয়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার জন জন স্মাটসের গল্পে আছে ব্যতিক্রমী এক বাস্তবতা। যে দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, সেই দেশের মাটিতে আগে কখনো পা-ই রাখেননি স্মাটস।

ক্রীড়া জগতে নাগরিকত্ব বদলে অন্য দেশের হয়ে খেলার ঘটনা নিতান্তই নতুন নয়, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ক্রিকেটার জন জন স্মাটসের গল্পে আছে ব্যতিক্রমী এক বাস্তবতা। যে দেশের হয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, সেই দেশের মাটিতে আগে কখনো পা-ই রাখেননি স্মাটস।

খাঁটি দক্ষিণ আফ্রিকান এই ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল প্রোটিয়াদের জার্সিতেই। কিন্তু সময়ের আবর্তনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর স্মাটসের ক্যারিয়ারে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয় যেন তাঁর জীবনসঙ্গিনী।

স্মাটসের স্ত্রীর ইতালীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার সুবাদে বিয়ের সূত্রে নাগরিকত্ব পান এই অলরাউন্ডার। আর এই এক টুকরো কাগজই তাঁর ক্রিকেট জীবনের দ্বিতীয় ইনিংসের পথ প্রশস্ত করে দেয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেটারকে সহযোগী দেশে খেলতে হলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের বিরতি প্রয়োজন। স্মাটস বেশ কয়েক বছর প্রোটিয়াদের রাডারে ছিলেন না, যা তাঁকে ইতালির হয়ে খেলার আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি দেয়।

সবচেয়ে মজার ঘটনা হচ্ছে ইতালির হয়ে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং ইতোমধ্যে কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলা স্মাটস কোনোদিন ইতালিতেই যাননি। দলের সঙ্গে তিনি অনুশীলন করেছেন দুবাই কিংবা ইউরোপের অন্যান্য ভেন্যুতে। ফলে যে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন, সেই দেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেওয়ার সুযোগই মেলেনি তাঁর।

৩৭ বছর বয়সী এই সাবেক প্রোটিয়া ক্রিকেটার এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ১৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ও ছয়টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাট হাতে পাঁচ হাজার রানের পাশাপাশি বল হাতেও নিয়েছেন শতাধিক উইকেট।

ইতোমধ্যে ইতালির জার্সি গায়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন তিনি। এবার বিশ্বমঞ্চে ব্যাট-বল হাতে তাঁর ভেলকি দেখার অপেক্ষায়ই গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link