মুম্বাইয়ের অলিগলি থেকে ডালাসের বাইশ গজ

সুপার ওভারে পাকিস্তানকে লজ্জা দেওয়ার নায়ক এই সৌরভের সফলতার যাত্রাটা মোটেই সহজ ছিল না। জিআরই পরীক্ষায় ভালো স্কোর নিয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই মুম্বাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান সৌরভ। পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন কাজও। একই সাথে পড়াশোনা আর কাজের চাপ সামলে মাঝেমধ্যে খেলে গেছেন শখের প্রিয় ক্রিকেটটা।

ঘড়ির কাঁটা তখন রাত একটা পেরিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পুরো শহর ঘুমে আচ্ছন্ন, নেত্রভালকার দম্পতির দরজায় কড়া নাড়ছে একদল ক্রিকেটপ্রেমী। কারণটা আর কিছুই নয়, হাজার মাইল দূরে ডালাসের মাঠে তখন ইতিহাস গড়েছেন তাদের ঘরের ছেলে সৌরভ নেত্রভালকার। পরাক্রমশালী পাকিস্তানকে সুপার ওভারে নাকানিচুবানি খাইয়ে রূপকথার জন্ম দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

সুপার ওভারে পাকিস্তানকে লজ্জা দেওয়ার নায়ক এই সৌরভের সফলতার যাত্রাটা মোটেই সহজ ছিল না। জিআরই পরীক্ষায় ভালো স্কোর নিয়ে পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই মুম্বাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান সৌরভ। পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন কাজও। একই সাথে পড়াশোনা আর কাজের চাপ সামলে মাঝেমধ্যে খেলে গেছেন শখের প্রিয় ক্রিকেটটা।

সেখানে স্থানীয় লিগে খেলতে খেলতেই এগিয়েছে তার ক্রিকেট জীবন। আইসিসি যখন অ্যাসোসিয়েট দলে খেলার জন্য ঐ দেশে বসবাসের নিয়ম সাত বছর থেকে তিন বছরে নামিয়ে আনে, তখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুযোগ পান তিনি। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অভিষেক ঘটে তাঁর। একই সময়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় ওরাকলে সফটওয়্যার পেশাজীবী হিসেবেও কর্মরত ছিলেন সৌরভ।

তার বেড়ে ওঠা সেই মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সৌরভের জন্য এটি যেন এক বৃত্তপূরণ। এক সময় এই মাঠেই সুরিয়াকুমার যাদবের সাথে মুম্বাইয়ের হয়ে খেলেছেন তিনি, আজ সেই সুরিয়ার বিপক্ষেই লড়তে হবে তাকে।

তার পরিবার অবশ্য জানিয়েছে ঘরের ছেলে খেললেও তারা তাদের স্বীয় দেশ ভারতকেই সমর্থন জানাবে। তবে স্বাভাবিকভাবেই মনেপ্রাণে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা জানাবেন ছেলের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের জন্য।

বছরের পর বছর মুম্বাইয়ে বসে টেলিভিশন সেটে সুদূরে খেলা সৌরভের পারফরম্যান্স দেখেছে তার পরিবার। কালের পরিক্রমায় এবার তারা নিজেদের শহরে সরাসরি স্টেডিয়ামে বসেই তাকে সমর্থন দেবে।

গ্রুপ পর্বে ভারতের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়া। সুপার এইটে ওঠার দৌড়ে তারা ফেভারিট না হলেও দীর্ঘমেয়াদে সৌরভের লক্ষ্য আরও বড়। আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দলকে নিয়ে যেতে চান তিনি।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link