প্রতিভার কোনো সীমান্ত নেই

আধুনিক ক্রীড়াবিশ্ব অনেক আগেই জন্মভূমি নির্ভর পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। পাসপোর্টের রঙের চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে প্রতিভা আর সুযোগের মেলবন্ধন। অভিবাসন, সুযোগ এবং বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতা মিলিয়ে আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়ে উঠেছে এক বৈশ্বিক পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি।

আধুনিক ক্রীড়াবিশ্ব অনেক আগেই জন্মভূমি নির্ভর পরিচয়ের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। পাসপোর্টের রঙের চেয়েও এখন বড় হয়ে উঠেছে প্রতিভা আর সুযোগের মেলবন্ধন। অভিবাসন, সুযোগ এবং বহুসাংস্কৃতিক বাস্তবতা মিলিয়ে আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়ে উঠেছে এক বৈশ্বিক পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি।

এই আসরে প্রায় ৪০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাকিস্তান সূত্র থাকা ক্রিকেটারও বিভিন্ন দেশের হয়ে মাঠে নামবেন। প্রতিভায় ভরপুর ভারত-পাকিস্তান জাতীয় দলে জায়গা পাওয়া বেশ কঠিন হওয়ায় অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পথ বেছে নিয়েছে দেশান্তরের মাধ্যমে।

উপার্জনের তাগিদে দেশ ছাড়া তরুণদের হাত ধরে মরুভূমির বুকে ক্রিকেটের যে বাগান গড়ে উঠেছে, তার প্রমাণ সংযুক্ত আরব আমিরাত দল। এই দলের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে আটজনই পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।

যার মধ্যে মুহাম্মদ জাওয়াদউল্লাহর গল্পটা যেন কোনো সিনেমার চিত্রনাট্য। মালাকান্দের এই যুবক একসময় করাচির গলিতে টেনিস বলে ঝড় তুলতেন।

অভাবের সংসারে একাডেমিতে যাওয়ার সাহস পাননি। ২০২০ সালে পেটের দায়ে পাড়ি জমান আরব আমিরাতে। সারাদিন ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে দিনের শেষে মাত্র এক-দুই ঘণ্টা সময় পেতেন অনুশীলনের জন্য। সেই শ্রম আর ত্যাগের ফসল হিসেবে তিনি আজ বিশ্বকাপে খেলার টিকিট হাতে পেয়েছেন।

নেদারল্যান্ডসের সাকিব জুলফিকারের গল্পটা আবার উত্তরাধিকারের। তার বাবা জুলফিকার আহমেদ একসময় শিয়ালকোট থেকে পাড়ি জমিয়েছিলেন ডাচ মুলুকে। বাবার দেখানো পথেই সাকিবের তিন ভাই ডাচ ক্রিকেটের জার্সি গায়ে জড়িয়েছেন।

অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজার গল্পটা অবশ্য অনেকেরই জানা। পাকিস্তানের শিয়ালকোট থেকে তার গন্তব্য ছিল বৈমানিক হওয়ার। সেখান থেকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে কম্পিউটিংয়ে উচ্চশিক্ষা।

কিন্তু ভাগ্য তাকে নিয়ে যায় জিম্বাবুয়েতে। ৩৯ বছর বয়সে এসে রাজা আজ বিশ্ব ক্রিকেটের এক মহাতারকা। রাজা স্বপ্ন দেখেন, তার এই দীর্ঘ পথচলা যেন আগামীতে হাজারো ‘সিকান্দার’কে অনুপ্রাণিত করে।

ইংল্যান্ডের জার্সিতে পরিচিত মুখ আদিল রশিদ ও তরুণ প্রতিভা রেহান আহমেদ, আমেরিকার গতি তারকা আলি খান কিংবা শায়ান জাহাঙ্গীর – নামগুলো ভিন্ন হলেও তাদের শেকড় এই এক পাকিস্তানেই। এমনকি ইতালি, স্কটল্যান্ড, ওমান বা কানাডার মতো দলেও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়দের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, ক্রিকেট আর আগের মতো জাতিগত বা সামাজিক বিভাজনে বন্দি নেই।

একসময় যে ক্রিকেট কেবল আভিজাত্য বা নির্দিষ্ট বর্ণের বলয়ে সীমাবদ্ধ ছিল, ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রমাণ করতে যাচ্ছে যে, এটি এখন সত্যিকারের এক বৈশ্বিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রতিভা থাকলে সীমানা কোনো বাধা নয়।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link