ক্রিকেট ব্যাকরণ বলে, শরীর থেকে হাত দূরে রেখে ব্যাট চালালে নিয়ন্ত্রণ হারানো অনেকটা নিশ্চিত। কিন্তু নিয়ম ভাঙার জন্যই বোধহয় জন্ম নিয়েছেন বৈভব সুরিয়াভানশি। প্রথাগত কোচিংয়ের পাঠকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, ব্রায়ান লারার মতো সেই রাজকীয় ব্যাকলিফটে যখন তিনি ৯৫ মাইল গতির বল গ্যালারিতে আছড়ে ফেলেন, তখন বয়সের সংখ্যাটা অবান্তর হয়ে দাঁড়ায়।
গত শুক্রবার হারারের মাঠে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডের বোলাররা যা দেখলেন, তাকে হয়তো দুঃস্বপ্ন বললেও কম হবে। মাত্র ৮০ বল খেলেই ১৭৫ রানের এক ইতিহাস রচনা করলেন বৈভব।
১৫টি চার আর ১৫টি বিশাল ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ। তার এই অপ্রতিরোধ্য ব্যাটিংয়ে ভারত গড়ে ৪১১ রানের পাহাড়সম স্কোর। জবাবে ইংল্যান্ড ৩১১ রানে থমকে গেলে ভারত ঘরে তোলে তাদের ষষ্ঠ শিরোপা।

মাত্র ৭১ বলেই ১৫০ ছোঁয়ার মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম দেড় শত রানের রেকর্ড গড়লেন সুরিয়াভানশি। যুব ওয়ানডেতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকানো নিজের রেকর্ডই আবারও তিনি নতুন করে ভেঙেছেন। ফাইনাল ম্যাচে মাত্র ৫৫ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে টুর্নামেন্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ানও হয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালে ১৩ বছর বয়সেই রাজস্থান রয়্যালসের সঙ্গে ১ কোটি দশ লাখ রুপির চুক্তি করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সবচেয়ে কম বয়সী চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার হন তিনি। আইপিএল অভিষেকে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ক্রিকেটবিশ্বকে জানান দেন তার আগমনী বার্তা, পরে ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে আইপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক করেন। সময়ের বিবর্তনে যুব ওয়ানডে, লিস্ট ‘এ’ ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একের পর এক রেকর্ড গড়েই যাচ্ছেন তিনি।
২০২৬ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৪৩৯ রান ও ১ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছেন ভারতীয় এই বিস্ময়বালক। মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া সুরিয়াভানশি দেখিয়ে দিয়েছেন, প্রতিভা, সাহস আর স্বাধীনচেতা মনোভাব থাকলে বয়স কখনোই বাধা নয়।











