আকাশ নয়, সূর্য হতে চান সুরিয়া

নিজের নামের ভাবার্থ ফুটিয়ে তুলেছেন বাইশ গজে। সূর্যের মত করেই রোশনাই ছড়িয়েছেন ধূসর মেঘের ভেলা সরিয়ে।

একটা অচেনা ধসের মুখে ভারত। চোখের পলকে মিডল অর্ডার প্যাভিলিয়নে। ঘরের মাঠে, লজ্জার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তখন টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু সুরিয়াকুমার যাদব যোগ্য সেনাপতির মত দাঁড়িয়ে গেলেন তরবারি হাতে। লড়াই করলেন, দলের মান বাঁচানো সংগ্রহ তুললেন স্কোরবোর্ডে।

অভিষেক শর্মা ফিরেছেন শূন্যরানে। শ্যাডলি ভ্যান স্কালকউইকের এক ওভারে নেই তিন উইকেট। তিলক ভার্মা, শিভাম দুবে ছাড়াও ফর্মে থাকা ঈশান কিষাণ ফিরেছেন পাঁচ বলের ব্যবধানে। ভারতের সংগ্রহ তখন ৪৬ রান, নেই চারখানা মহাগুরুত্বপূর্ণ উইকেট। স্বল্পতেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় ওয়াংখেড়ে জুড়ে পিনপতন নিরবতা।

ব্যর্থ হলেন রিঙ্কু সিং, হার্দিক পান্ডিয়া। ভারতের আকাশ জুড়ে তখন ধূসর মেঘের ঘনঘটা। কিন্তু সুরিয়াকুমার যাদব, আলোর উৎস হওয়ার অপেক্ষায় থেকেছেন। নিজের নামের ভাবার্থ ফুটিয়ে তুলেছেন বাইশ গজে। সূর্যের মত করেই রোশনাই ছড়িয়েছেন ধূসর মেঘের ভেলা সরিয়ে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে তিনি টিকে থাকার লড়াই চালালেন খানিকক্ষণ। ধীর পায়ে বিপর্যয়ের খাদ থেকে দলকে দূরে সরালেন।

এরপর আর তাকে থামাবে কে! তিনি ছুটলেন, বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুললেন। দলের দীর্ঘাশ্বাস কমালেন। আরেকপ্রান্তে উইকেট পতনের মিছিল সাময়িক সময়ের জন্য স্তব্ধ হলেও, থামেনি কখনোই। কিন্তু অবিচল চিত্তে সুরিয়াকুমার টিকে রইলেন শেষ পর্যন্ত। শুধু টিকে থাকলে বললে বরং ভুলই বলা হয়।

শেষ ওভারে তিনি সৌরভ নেত্রভালকারের বিপক্ষে দুই ছক্কা ও দুই চারে দলের সংগ্রহ দাঁড় করান ১৬১ রানে। এ যাত্রায় শুরুতে খানিকটা সময় নিলেও, তিনি ইনিংস শেষ করেছেন ১৭১.৪২ স্ট্রাইকরেটে। দশটি চার ও চারটি ছক্কার ইনিংসটিতে তিনি দলের পক্ষে জড়ো করেছেন ৪৯ বলে ৮৩ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে- এটিই তার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। এই ইনিংসে তিনি আরও একটিবার বনে গেলেন ভারতের নিজস্ব সূর্য।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link