ক্রিকেট সাহিত্যে একটি উক্তির বেশ ঘটা করেই প্রচলন আছে যে, ‘ক্যাচ মিস, তো ম্যাচ মিস’। প্রতিপক্ষ ব্যাটার কোন ভুল করলে তা সর্বস্ব দিয়ে লুফে নিতে হয়। তার ব্যাতিক্রম ঘটলেই পুনর্জন্ম পেয়ে যেন স্বাভাবিকের চেয়ে আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেন সেই ব্যাটার। আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর প্রথম দিনে দুই ম্যাচে এমন ঘটনারই দেখা মিলল।
এবারের আসরের প্রথম ম্যাচে কলোম্বোতে নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হয় পাকিস্তান। পাকিস্তানের ইচ্ছায় আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় অবদানে বোর্ডে ১৪৭ রান তুলতে সক্ষম হয় ডাচরা। তবে সেই ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বেশ বেগ পেতে হয় সালমান আলি আগার দলকে।
এক পর্যায়ে গিয়ে দুই ওভারে পাকিস্তানের দরকার হয় ২৯ রানের। সাত উইকেট হারিয়ে ততক্ষণে ক্রিজে ছিলেন অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফ ও শাহীন শাহ আফ্রিদি। লোগান ভ্যান বিকের করা প্রথম ডেলিভারিতে ওয়াইড মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকান ফাহিম। সমীকরণ তখন ১১ বলে ২৩ রান।

ওভারের দ্বিতীয় ডেলিভারিতেই আবারও মারতে গিয়ে বিকের স্লোয়ারের ফাঁদের পড়েন ফাহিম। করে বসেন ভুল। বল তুলে দেন আকাশে। তবে তার চাইতে বড় ভুল করেন ম্যাক্স ও’ডাউড।চেষ্টা করেও ঠিকমতো লুফে নিতে পারেননি বলটা।
সেই খেসারত দিতে হয়েছে ম্যাচ দিয়েই। ফাহিম আশরাফের ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রানের সুবাদে এক বল হাতে রেখেই তিন উইকেটের জয় পায় পাকিস্তান। ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন ফাহিম।
দিনের শেষ ম্যাচে ওয়াংখেড়েতে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকেই বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে পরাক্রমশালী ভারতকে চাপে রাখে যুক্তরাষ্ট্রের বোলাররা। পাওয়ারপ্লেতেই ৪৬ রান দিয়ে তুলে নেন চারটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।

তবে ভুলটা করে বসেন ম্যাচের দশম ওভারে। শুভম রঞ্জনের করা ওভারের শেষ ডেলিভারিতে স্লোয়ারের ফাঁদে পড়েন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব। মিড অনে ফ্লিক করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। এবার ভুল করে বসেন স্বয়ং বোলারই। বল হাতের নাগালে পেলেও ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি শুভম।
পরবর্তীতে অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতার দিনে একাই ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন সুরিয়া। তাঁর এই ইনিংসের সুবাদে ১৬২ রানের লক্ষ্য নির্ধারন করে দেয় ভারত। একাই যেন ব্যাট হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন সুরিয়া। লুফে নেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কারটাও।
ফলে ২৯ রানের ব্যবধানে জয় লাভ করে ভারত। সুরিয়ার সেই ক্যাচ মিসের খেসারত যুক্তরাষ্ট্রকেও দিতে হয়েছে ম্যাচ দিয়েই।











