জাহানারার কাঠগড়ায় বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদন!

ধোঁয়াশা পছন্দ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড! রহস্যময় ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি না হলে যেন আশ মেটে না। জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির সেই স্পর্শকাতর অভিযোগের তদন্ত নিয়েও অস্পষ্টতার ছাপ রেখে যাচ্ছে বোর্ড। আর তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাহানারা।

ধোঁয়াশা পছন্দ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড! রহস্যময় ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি না হলে যেন আশ মেটে না। জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির সেই স্পর্শকাতর অভিযোগের তদন্ত নিয়েও অস্পষ্টতার ছাপ রেখে যাচ্ছে বোর্ড। আর তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন জাহানারা।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের অন্ধকার গলিপথের সন্ধান সামনে এনেছিলেন জাহানারা। চোখ কপালে তোলার মতো অভিযোগ করেছিলেন তিনি। সেই অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। আশ্বাস দেওয়া হয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সত্য আনা হবে সামনে। তবে সময়ের পরিক্রমায় আশ্বাসবাণীর বাস্তবায়ন কতটুকু হলো?

জাহানারার নিযুক্ত আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের  পাঠানো বিবৃতিতে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, অভিযোগকারী হয়েও তদন্তের ফলাফল জানার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে জাহানারাকে। বিসিবির পক্ষ থেকে এখনো তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ফলাফল জানানো হয়নি, এমনকি তদন্ত প্রতিবেদনের কোনো কপি জাহানারা পাননি ।

যৌন হয়রানি, অসদাচরণ, প্রতিশোধমূলক আচরণ এবং গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের গোপনীয়তা শুধু হতাশাজনকই নয়, বরং উদ্বেগজনকই। এমনটাই জানানো হয়েছে জাহানারার পক্ষ থেকে।

৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবির দেওয়া বিবৃতির পরই এই প্রতিক্রিয়া আসে। সেখানে বোর্ড দাবি করে, চারটি অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু কোন দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, কী ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত এসেছে, সে বিষয়ে বিসিবির বিবৃতিতে নেই কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা।

সবখানেই যেন দায়সারা ভাব আর খামখেয়ালিপনা। কোন বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি জাহানারাকেও। করার দরকার তাই করছি,  এমন গা-ছাড়া মানসিকতায় জন্ম দিচ্ছে প্রশ্নের।

আরও বিস্ময়ের বিষয়, জাহানারার পক্ষ থেকে ইমেইলের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিসিবি জানায়, প্রতিবেদনটি এখনো লিগ্যাল টিমের পর্যালোচনায় রয়েছে। কিন্তু এই প্রতিবেদন আদৌ অভিযোগকারীকে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উত্তর দেয়নি বোর্ড।

তদন্ত শেষ হওয়ায় একদিকে স্বস্তি থাকলেও, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতিতে হতাশ জাহানারা আলম। একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, সাবেক অধিনায়ক এমনকি অভিযোগকারী হিসেবে ন্যূনতম সম্মান ও তথ্য জানার অধিকার তাঁর প্রাপ্য, এটা কোনো করুণা নয়, বরং ন্যায্য অধিকার।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট যখন এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছে, তখন এমন একটি ইস্যুতে বিসিবির ধোঁয়াশা, অস্বচ্ছতা ও দায় এড়ানোর মানসিকতা কোনোভাবেই কাম্য না। নীরবতা যে জন্ম দেবে সন্দেহ আর উদ্বেগের। প্রশ্ন ওঠে, বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রশাসন আদৌ কি নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আন্তরিক?

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link