ওয়াংখেড়েতে নেপালি স্রোত, বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্য

নেপালের প্রতিটা দর্শক বুঝিয়েছেন, দল ছোট-বড় হতেই পারে। সামর্থ্য বিশ্ব জয়ের নাই বা হল। তবুও দলটা যে নিজের, দলের প্রতিটা খেলোয়াড় যে ভীষণ আপনজন।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় দিনে পরিপূর্ণ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। নেপালের জার্সিতে ছেয়ে গেছে চারিপাশ। ভিনদেশের মাটিতে নেপালি দর্শকদের গগণচুম্বী উচ্ছ্বাস। এখানেই তো বিশ্বকাপের আনন্দ, এখানেই তো সার্থকতা বিশ্বকাপের। সকল আয়োজনের কেন্দ্রে তো ওই পাগলাটের সমর্থকরাই।

নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ইংল্যান্ড ও নেপাল ম্যাচ আরও একটিবার বোঝাল, যেকোন খেলার প্রাণ ওই দর্শকরা। মাঠভর্তি নেপালি দর্শকদের অনুপ্রেরণায় নেপাল প্রায় অসাধ্য সাধন করেই ফেলেছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ রানের পরাজয় নেপালের মত উদীয়মান দলের জন্য তো জয়ের সমতুল্য।

জয়ের যখন খুব কাছে ছিল নেপাল, তখন দর্শকরাও ছিলেন ওই স্নায়ুযুদ্ধের অংশিদার। তাদের চোখে-মুখে ছিল আনন্দ আর শঙ্কার মিশ্রণ। উন্নত শিরে ছিল গর্ব। নেপালের পরাজয় তাদের হতাশ করেছে বৈকি। কিন্তু খেলোয়াড়দের অভিবাদন দুঃখ ভুলে নতুন দিনের সমর্থনের শক্তির জোগান দিয়েছে শেষ পর্যন্ত।

এই নেপালি দর্শকদের ক্রিকেটপ্রেম সমাদৃত হয়েছে সর্বত্র। স্বল্প সময়ে দলের উত্থানের অন্যতম কারিগর এই সমর্থকরাও। ক’দিন আগেই তো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সন্দীপ লামিচানের দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে সমালোচনার বন্যা বয়ে গেছে। রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সকে ব্যাখ্যা অবধি দিতে হয়েছে।

এমন পাগলামির উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত এখনও বাংলাদেশের সমর্থকরা। দলের পারফরমেন্স যেমনই হোক, পৃথিবীর যে প্রান্তেই খেলা হোক- গ্যালারিতে উড়েছে লাল-সবুজের পতাকা। এই দর্শকদের কথা ভেবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সমর্থক ছাড়া যে সকল লড়াই অর্থহীন। আনন্দ আর বেদনার সঙ্গী ছাড়া এত কষ্টের মূল্য কী!

নেপালের প্রতিটা দর্শক বুঝিয়েছেন, দল ছোট-বড় হতেই পারে। সামর্থ্য বিশ্ব জয়ের নাই বা হল। তবুও দলটা যে নিজের, দলের প্রতিটা খেলোয়াড় যে ভীষণ আপনজন। তাদের খারাপ দিনে, সংগ্রামের মুহূর্তগুলোতে থেকে যেতে হয় বিষাদের নোনা জলে স্বপ্নের ভেলা ভাসিয়ে। একদিন না একদিন তো আসবে বিজয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link