রিশাদ হোসেন ওয়ানডেতেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গত এক বছরে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ উইকেট তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন ওয়ানডেতে। এই সময়ে মোট তিনজন স্পিনার ছিলেন নিয়মিত। নাসুম আহমেদও পেয়েছিলেন সুযোগ। বা-হাতি স্পিনার হিসেবে তানভীর আহমেদ খেলেছেন সর্বাধিক ওয়ানডে। মেহেদী হাসান মিরাজ তো ছিলে দলের একমাত্র স্বীকৃত অলরাউন্ডার হয়ে।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১১টি ম্যাচ খেলেছেন মিরাজ। এই সময়ে তার ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে ১১ খানা উইকেট। এরপরের স্থানেই আছেন তানভীর। নয় ম্যাচে তার শিকার ১৬ খানা উইকেট। তার থেকে দুই ম্যাচ কম খেলা রিশাদের উইকেট সংখ্যা ১৭টি। অন্যদিকে দুই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া নাসুম বাগিয়েছেন ৫ উইকেট।
এদের ছাড়া সাইফ হাসান, শামীম হোসেন পাটোয়ারি ও নাজমুল হোসেন শান্তও হাত ঘুরিয়েছেন বলহাতে। তাদের সম্মিলিত উইকেটের সংখ্যা সাত। এই হচ্ছে গত এক বছরে ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্পিন ডিপার্টমেন্টের হালচাল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপটা বাংলাদেশের খেলা হয়ে ওঠেনি। তার আগে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও বলার মত কোন কিছুই করে দেখাতে পারেনি। অন্যদিকে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সরাসরি সুযোগ পাওয়া নিয়ে জেগেছে শঙ্কা।

তবে বাংলাদেশের হাতে আছে অন্তত ২০টি ম্যাচ। সেই ২০টি ম্যাচে বাংলাদেশকে জিততে হবে। র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থান বাড়াতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশ আছে দশ নম্বরে। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চীর মধ্যে সেরা আটে ঢুকতে হবে বাংলাদেশকে। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব নিতে হবে দলের স্পিনারদের।
ঘরের মাঠে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মত কঠিন প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে হলে স্পিনারদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। এই সিরিজগুলো জয়লাভ করা অতীব জরুরি। যদিও চারিদিকে এক সুখবর ছড়িয়েছে। দেশের হয়ে আবারও খেলতে দেখা যেতে পারে সাকিব আল হাসানকে। তেমনটি ঘটলে দুশ্চিন্তা অনেকাংশেই হয়ত কমবে বাংলাদেশের।
কিন্তু অপরদিকে মেহেদী হাসান মিরাজের একেবারে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া দুশ্চিন্তার কারণ বটে। ওয়ানডেতে তার বোলিং স্ট্রাইকরেট গিয়ে ঠেকেছে ৫৮.২-এ। অর্থাৎ প্রায় প্রতি ৫৮ বলে একটি করে উইকেট তুলেছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক। দলনেতার এমন বেহাল চিত্র দলের উপর চাপ বাড়ায়, দুশ্চিন্তায় ফেলে দেয়। অধিনায়কদের যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়।

একটা সময়ে বাংলাদেশ এই স্পিনারদের ভরসাতেই চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। এখন সেই দিনগুলো যেন স্রেফ অতীত। পরিবর্তন হওয়া জরুরি। দেখবার পালা আগামী একটা বছর বাংলাদেশের স্পিন ডিপার্টমেন্টের চিত্র কি দাঁড়ায়। সেই চিত্রই বরং দিনশেষে হবে বাংলাদেশের সফলতার আংশিক মানদণ্ড। স্পিন ডিপার্টমেন্ট ঠিকঠাক পারফরম না করলে, ২০২৭ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে বাংলাদেশের। সেটাই নিশ্চয়ই নয় প্রত্যাশিত।











