বিশ্বকাপের সেঞ্চুরির তালিকার ‘ফার্স্ট বয়’ যারা

এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি হয়েছে মোট ১৩টি। সর্বশেষ সংযোজন কানাডার যুবরাজ সামরা। এটি ছিল যুবরাজের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি। এমনকি কানাডার ইতিহাসেও এটিই প্রথম বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি। এছাড়া আরও আট দেশের আট ব্যাটার নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি করেছেন। যে তালিকায় আছেন বাংলাদেশের তামিম ইকবাল খানও।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরেই সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছিলেন দ্য ‘ইউনিভার্স বস’। এই তালিকার সূচনা তার হাত ধরেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এসেছিল গেইলের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেঞ্চুরি। এরপর ২০১০ সালের ভারতের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি মঞ্চস্থ করেছিলেন সুরেশ রায়না। তার প্রথম সেঞ্চুরির প্রতিপক্ষও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওই বছরই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে। শ্রীলঙ্কার পরবর্তী ব্যাটারদের জন্য বিশ্বাস রাখার মত এক উদাহরণ সৃষ্টি করে গিয়েছিলেন মাহেলা। যে পদাঙ্ক অনুসরণ করে দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অনবদ্য সেঞ্চুরি হাকিয়েছন পাথুম নিসাঙ্কা।

২০১২ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে প্রথম সেঞ্চুরিটা করেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এরপরের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স হেলস ও পাকিস্তানের আহমেদ শেহজাদ সূচনা করেন নিজ নিজ দেশের বিশ্বকাপ সেঞ্চুরির রেকর্ডের পাতা। তার পরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে আর শূন্য থাকতে দিলেন না তামিম ইকবাল। ওমানের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরিটা করেন বিশ্বকাপের মঞ্চে।

দক্ষিণ আফ্রিকার রাইলি রুশোর পরই এবার প্রথম সেঞ্চুরিরে রেকর্ডে জায়গা করে নিলেন যুবরাজ সামরা। মাঝে ২০২৪ সালের নতুন কোন প্রতিনিধির সেঞ্চুরির রেকর্ড যুক্ত হয়নি বিশ্বকাপের অধ্যায়ে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে এখনও অবধি অস্ট্রেলিয়ান কোন ব্যাটার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারেননি। এছাড়া স্রেফ ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার একাধিক ব্যাটার বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আর কেবল ক্রিস গেইলের ঝুলিতে আছে একাধিক সেঞ্চুরি।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link