অস্ট্রেলিয়ার এই দলে আগের মত জৌলুস নেই

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সেই চিরচেনা রূপ কিংবা প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার সেই অবিনাশী দাপট যেন মরুর বালিতে মিলিয়ে গেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই অস্ট্রেলিয়ার আকস্মিক ও হতাশাজনক বিদায় ক্রিকেট বিশ্বকে হতবাক করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের সেই চিরচেনা রূপ কিংবা প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার সেই অবিনাশী দাপট যেন মরুর বালিতে মিলিয়ে গেছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই অস্ট্রেলিয়ার আকস্মিক ও হতাশাজনক বিদায় হতবাক করেছে গোটা ক্রিকেট বিশ্বকেই।

অজি ক্রিকেটের কিংবদন্তি রিকি পন্টিং মনে করছেন, কেবল মাঠের ফর্ম নয়, বরং চোট আর পরিকল্পনার অভাবই পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পরিণতির মূল কারণ। জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার কাছে শোচনীয় হারের পর ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছে তারা।

অথচ বছরজুড়েই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দাপট বজায় রেখেছিল অজিরা। কিন্তু বড় মঞ্চে আসার ঠিক আগমুহূর্তে ভারত ও পাকিস্তানের কাছে টানা হার দলটির আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছিল।

পন্টিং বলেন, ”কাগজে-কলমে এই দলটির সেই আভিজাত্য বা দাপুটে আভা ছিল না, যা সাধারণত একটি অস্ট্রেলীয় দলের বৈশিষ্ট্য। জিম্বাবুয়ের কাছে সেই হারটিই ছিল আমাদের বিশ্বকাপের কফিনে শেষ পেরেক।’

বিশ্বকাপের আগেই অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছিল তাদের তুরুপের তাস প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডকে। গত বছর মিচেল স্টার্কের অবসরের পর বোলিং আক্রমণের যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করার মতো ধারাল অস্ত্র এই স্কোয়াডে ছিল না।

​ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। তিন নম্বরে ক্যামেরন গ্রিন কিংবা চার নম্বরে টিম ডেভিডকে খেলানো হয়েছে। পন্টিংয়ের দৃষ্টিতে ব্যাটিং অর্ডারের এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা হিতে বিপরীত হয়েছে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঝোড়ো শুরুর পর মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারানোকে দলের মানসিক ভঙ্গুরতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন এই সাবেক অধিনায়ক।

অজি ক্রিকেটের জন্য এই বিদায় কেবল একটি টুর্নামেন্ট থেকে প্রস্থান নয়, বরং এক সোনালি প্রজন্মের বিদায়ঘণ্টা এবং নতুন শুরুর এক কঠিন বার্তা। পন্টিংয়ের মতে, এরই মধ্যে দিয়ে  সমাপ্তি ঘটবে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কিংবা স্টিভ স্মিথদের মতো ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link