নব্য চার দেশের উত্থানে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন

টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোতেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটীয় উত্থানের প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। নতুন করে উঠে আসা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে নেপাল, ইতালি, নামিবিয়া এবং জাপান।

এক সময় কেবল অভিজাত কিংবা উচ্চ শ্রেণীর মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা ক্রিকেট আজ বিশ্বের অন্যতম প্রসিদ্ধ একটি ক্রীড়া। টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোতেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটীয় উত্থানের প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। নতুন করে উঠে আসা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছে নেপাল, ইতালি, নামিবিয়া এবং জাপান।

সাধারণত সহযোগী দেশগুলোতে প্রবাসী বা অভিবাসী ক্রিকেটারদের প্রাধান্য দেখা যায়। কিন্তু এই চারটি দেশের বিশেষত্ব হলো – তারা ক্রিকেটের কৃষ্টিকে নিজেদের সংস্কৃতির অঙ্গে পরিণত করার লড়াইয়ে নেমেছে।

  • নেপাল 

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ক্রিকেটীয় উন্মাদনা অন্য যেকোন অঞ্চলের তুলনায় বরাবরই অনেকটা বেশি। সেই উন্মাদনার জোয়ার আরও তীব্র করতে সাম্প্রতিককালে উত্থান হয়েছে নেপালের। তাদের ক্রিকেটীয় অবকাঠামো এবং বিশাল সমর্থকগোষ্ঠী যেকোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশকে ঈর্ষা জাগাতে পারে।

  • নামিবিয়া

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিবেশী দেশ নামিবিয়াতে ক্রিকেট এক সময় কেবল একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু দিন দিন এর পরিধি বাড়ছে। মাঠেও নামিবিয়া এখন অত্যন্ত আগ্রাসী এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে।

যদিও দলটিতে স্থানীয় কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, তবুও তাদের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতা বলে দিচ্ছে নামিবিয়ার হাত ধরেই আফ্রিকা অঞ্চলের ক্রিকেটে এক নতুন বিপ্লব শুরু হয়েছে।

  • ইতালি

ইউরোপের ফুটবল পাগল দেশ ইতালি যে ক্রিকেটেও এতটা প্রাণবন্ত হতে পারে, তা অনেকের ধারণার বাইরে ছিল। মোসকা ব্রাদার্স, মানেন্তি ব্রাদার্স কিংবা থমাস ড্রাকা ও জিয়ান পিয়েরোর মতো খেলোয়াড়রা ইতালিয়ান রুট থেকে উঠে এসে ক্রিকেট খেলছেন।

গ্যালারিতে ইতালিয়ান সমর্থকদের উন্মাদনা আর সরকারের ক্রমবর্ধমান পৃষ্ঠপোষকতা প্রমাণ করে যে, তারা সঠিক পথেই আছে। এই সাহসী ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে আগামী কয়েক বছরে ইতালি বিশ্ব ক্রিকেটের অনেক চেনা সমীকরণ বদলে দেবে।

  • জাপান

জাপান ক্রিকেট বোর্ড প্রবাসী নির্ভরতা কাটিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব ক্রিকেট সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে কঠিন ব্রত নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। জাতীয় ও বয়সভিত্তিক দলেও জাপানি বংশোদ্ভূতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link