ব্রাজিলের মিশন হেক্সা হচ্ছে না এবারও!

ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া এদের থেকে শুরু করে আরও যারা দলে আছেন তারা এক-আধদিন ঝলক দেখালেও প্রতিনিয়ত অসাধারণ কিছু দেশের হয়ে করতে পারেননি কখনোই।

২০০২ সালের পর দুই যুগ কেটে গেলেও আর বিশ্বকাপ জেতা হয়নি ব্রাজিলের। পাঁচবারের বিশ্বচ্যম্পিয়নরা প্রতিবার যে মিশন হেক্সাকে সামনে নিয়ে মাঠে নামে সেটা এবারও সম্ভবত পূরণ হতে দেখা যাবে না। জুন-জুলাইয়ে হতে যাওয়া বিশ্বকাপে কার্লো অ্যানচেলত্তির দলকে খালি হাতে ঘরে ফেরার সম্ভাবনাই খুব বেশি বলে মনে হচ্ছে।

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল। কিন্তু, সাম্প্রতিক সময়ে দলের অবস্থা যে খুব স্বস্তিদায়ক তা বলা যায় না।  দিনকয়েক আগেই দশজনের ফ্রান্সের সাথে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। নিজেদের রক্তে ফুটবল থাকা দেশটির এই হাল কেন তা চলুন খুঁজে দেখি।

২০১০ বিশ্বকাপের পর থেকেই ব্রাজিলের মধ্যমণি হয়ে ছিলেন নেইমার জুনিয়র। হলুদ জার্সি গায়ে নিয়মিত গোল করে গেছেন, করিয়েছেনও অনেক। পেলেকে পেছনে ফেলে দক্ষিণ আমেরিকার দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও নেইমার। কিন্তু, নেইমারের পর নিয়মিত ভালো খেলেন এমন কাউকে বের হতে দেখা যায়নি দেশটির থেকে।

বিশ্বকাপের আগের দুই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে নেইমার জুনিয়রকে রাখা হয়নি। অবশ্য বিশ্বকাপের দল প্রকাশের এখনো বাকি আছে। ব্রাজিলের ইতালিয়ান কোচ কার্লো অ্যানচেলত্তি এখনো এই তারকার দলে অন্তর্ভুক্তির সকল সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি । কিন্তু, তাকে না পেলে দলের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া এদের থেকে শুরু করে আরও যারা দলে আছেন তারা এক-আধদিন ঝলক দেখালেও প্রতিনিয়ত অসাধারণ কিছু দেশের হয়ে করতে পারেননি কখনোই। এমনকি রিয়াল তারকা ভিনিসিয়াস সদ্য স্বীকার করেছেন ব্রাজিল ফেভারিট নয় সেই কথাও।

আগে যখনই ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছে সেখানেই একজন ‘নাম্বার নাইন’ সবসময় ভালো খেলেছেন।  পেলে, রোমারিও থেকে শুরু করে ২০০২ সালের বিজয়ী দলের রোনালদো নাজারিও, প্রত্যেকেই ছিলেন এমন। কিন্তু, এবার ব্রাজিল দলে এখনো এমন কেউ নেই যিনি এই জায়গায় হলুদ জার্সিতে পরীক্ষিত।

ব্রাজিলের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে দলের নেতৃত্ব সংকট। থিয়েগো সিলভা, নেইমারদের পর এই বড় দলটির নেতা হতে পারেন এমন কেউ এখনো তৈরি হননি। এই কারণে মাঠে ঠিকভাবে এগারোজনকে এক সূত্রে গাঁথা অবস্থায় দেখা যায় না।

সবাইকে উজ্জীবিত করতে পারেন এমন একজন নেতা এই দলের জন্য আবশ্যিক। এছাড়াও আছে অ্যালিসন বেকারের ইনজুরি। সাথে ফুলব্যাকে দুর্বলতা। সব কিছুর উপরে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দেরই আত্মবিশ্বাসের অভাব।

এত এত সমস্যা নিয়ে কোনো মিরাকেল না ঘটলে দর্শকদের মন ভাঙা যে সুনিশ্চিত তা বলাই যায়। আরও একটা বিশ্বকাপ কাটিয়ে দিতে হবে ব্রাজিলের ফাইনাল জেতার পর সাম্বা নাচ না দেখেই।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link