দেশে ফিরেই অকূল পাথারে ‍বুলবুল

দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর দেশে ফিরেই একদিকে তদন্তের চাপ, অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটের স্থবিরতা—দুই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিসিবি সভাপতি। এখন তার পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন।

অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় দেড় মাস পরিবার নিয়ে সময় কাটিয়ে দেশে ফিরেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার মধ্যরাতে ঢাকায় ফেরার পর রবিবার দুপুরে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) যান। দায়িত্বে ফিরেই তাকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে—ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের অচলাবস্থা এবং বিসিবির নির্বাচনের তদন্ত।

বিসিবিতে পৌঁছানোর পরই ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) তার কাছে চিঠি দিয়ে দ্রুত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেট চালুর দাবি জানিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, মৌসুম প্রায় শেষের দিকে চলে এলেও লিগ আয়োজন নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই।

তৃতীয় বিভাগ লিগ শুরুর প্রস্তুতি নেই, দ্বিতীয় বিভাগেও অনেক ক্লাব অংশ নেয়নি—ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রিকেটাররা। জীবিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই আর্থিক ও মানসিক সংকটে ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিসিবির ৬ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে এবং সব পক্ষের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে।

সেই প্রক্রিয়ায় যেকোনো সময় আমিনুল ইসলাম বুলবুল-কেও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হতে পারে। কমিটি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানিয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েকদিন অতিবাহিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পরিবারসহ ঈদ উদযাপনের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান বিসিবি সভাপতি। তবে তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে তাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়। বিশেষ করে ৬ অক্টোবরের নির্বাচন নিয়ে বিরোধিতা, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রভাব থাকার অভিযোগ এবং সংগঠকদের বর্জনের ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে বুলবুল বোর্ডের নিয়মিত কার্যক্রম থেকে দূরে থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন-কে অপসারণের সিদ্ধান্ত ছিল আলোচিত, যার প্রতিবাদে তিনি পরিচালক পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর দেশে ফিরেই একদিকে তদন্তের চাপ, অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটের স্থবিরতা—দুই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বিসিবি সভাপতি। এখন তার পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গন।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link