বাংলাদেশ যেন ​কিউইদের ডানা ছাঁটার আঙিনা

শক্তি আর ঐতিহ্যে ব্ল্যাকক্যাপসরা যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও, শর্টার ফরম্যাটে - বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডেতে যখন লড়াইটা বাংলাদেশের ঘরের মাঠে হয়, তখন চিত্রনাট্য বদলে যায় আমূল।

ক্রিকেট মানচিত্রের এক প্রান্তে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড, অন্য প্রান্তে ব-দ্বীপের দেশ বাংলাদেশ। শক্তি আর ঐতিহ্যে ব্ল্যাকক্যাপরা যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও, শর্টার ফরম্যাটে – বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি আর ওয়ানডেতে যখন লড়াইটা বাংলাদেশের ঘরের মাঠে হয়, তখন চিত্রনাট্য বদলে যায় আমূল।

ব্যাট-বলের এই দ্বৈরথে নিউজিল্যান্ডের জন্য বাংলাদেশ মোটেই কোনো সহজ শিকার নয়, বরং মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়াম কিংবা চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম যেন তাদের জন্য এক একটি গোলকধাঁধা।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়গুলো রচিত হয়েছে ঘরের মাঠেই। ২০১০ এবং ২০১৩ সালের সেই স্মৃতিগুলো আজও টাইগার ভক্তদের মনে নস্টালজিয়া হয়ে আছে।

২০১০ সালে ৪-০ ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানো ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম এক টার্নিং পয়েন্ট। সেই থেকেই ‘বাংলাওয়াশ’ শব্দটি ক্রিকেটের অভিধানে পাকাপোক্ত জায়গা করে নেয়। তিন বছর পর আবারও কিউইরা বাংলাদেশে এলে এবারও ফিরতে হয় শুন্য হাতেই। ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ প্রমাণ করেছিল, ঘরের মাঠে তারা এক অদম্য শক্তি।

ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণ টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে নাকানিচুবানি খাইয়েছে। বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহুর্তে মিরপুরের ঘূর্ণিতে ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ২০২১ সালের সেই সিরিজটির কথা মনে করলে আজও কিউইদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে।

যদিও সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে স্বাভাবিকভাবেই নিউজিল্যান্ডই এগিয়ে। একদিনের ফরম্যাটে মোট ৪৬ দেখাতে ৩৪ বার জয়ের হাসি হেসেছে নিউজিল্যান্ড। বিপরীতে বাংলাদেশের জয় কেবল ১১ বার। টি-টোয়েন্টিতেও ২০ বারের মুখোমুখিতে ১৫ জয় কিউইদের।

তবে নিজেদের মাঠে বরাবরই নিউজিল্যান্ডকে দাপটের সাথে পরাজয়ের গ্লানি দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ওয়ানডেতে ১১ জয়ের আটটিই এসেছে ঘরের মাটিতে। টি-টোয়েন্টিতেও চার জয়ের তিনটিই মিরপুরের চিরচেনা কন্ডিশনে।

চলতি মাসের ১৭ তারিখ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড দ্বৈরথ। মিরপুরের সবুজ আঙিনায় আবারও ২০১০ কিংবা ২০২১ সালের সুখস্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই চাইবেন লিটন-মিরাজরা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link