নায়ক হতে গিয়ে কি খলনায়ক বনে গেলেন ডেভিড মিলার? দুই বল প্রয়োজন দুই রান, নিশ্চিত সিংগেল নিতে রাজি হলেন না। শেষ বলে রান-আউট, এক রানের হার। জয়ের সীমানা এতটা কাছে, তবু ছোঁয়া হলো না। ওই একটা সিঙ্গেল পরাজয় থেকে বাঁচিয়ে দিতে পারত দিল্লি ক্যাপিটালসকে। অথচ, দুই বলে দুই রানের সমীকরণ পর্যন্ত টেনে এনেছিলেন মিলারই।
সুন্দর অথচ নির্মম, শান্ত অথচ ভয়ঙ্কর, লোকেশ রাহুল অশান্ত এক ঢেউ হয়ে আছড়ে পড়লেন অরুন জেটলি স্টেডিয়ামের বুকচিরে। শঙ্কার মেঘ সরিয়ে দখল নিলেন বাইশ গজের। বোলারদের সামনে মহাভয় প্রতিষ্ঠা করলেন ৯২ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলে। তবে উপসংহারে আক্ষেপের লাল চিহ্নটা থেকে গেল।
প্রথম ম্যাচ শুন্য, দ্বিতীয়টাতেও ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেয়েছেন লোকেশ রাহুল। এমন অসহায়ত্ব থেকে মুক্তির উপায় কি? সেটা নিজেই ভালো জানতেন রাহুল, এরপর কেবলই ঘুরে দাঁড়ানোর স্লোগান তুললেন, রাজ করলেন বাইশ গজে।

ব্যর্থতা ছাপিয়ে ক্রমশ উঠে এলো এক রাজার রাজ্য পুনরুদ্ধার কাজ। প্রত্যাশা আর রান খরা বাড়তি চাপ হয়ে ঘনীভূত হয়েছে মাথার উপর। তবে বড় কিছু করতে গেলে যে বাধা আসবে, রাহুল জানতেন। জানতেন বলেই কোন চাপ তাঁকে ছুঁতে পারেনি। কোন বাধা তাঁর পথ আটকে দিতে পারেনি।
২১১ রানের লক্ষ্য তাঁরা করতে নামলেন। বিশেষ কিছু করতে হবে যদি জিততে চাও, এমন বাক্য যখন কানের কাছে বাজছে, হিমশীতল চোখে সবটা দেখে নিলেন, বুঝে নিলেন হিসাবটা। এরপর চলল শাসন। তবে সবকিছুর একটা শেষ থাকে, সবচেয়ে সুন্দর ফুলটাও ঝরে পড়ে গাছ থেকে। কত উপন্যাসেই তো আক্ষেপ থাকে শেষ পাতায়। রাহুলের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। ৯২ রানেই কাটা পড়েছেন, যদিও স্বার্থপর হলে সেঞ্চুরাটা ধরা দিতে পারত। তবে দলের জয় যে তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে তখন।
সেখানেও এক আক্ষেপের গল্প লিখে রেখেছিলেন বিধাতা। পরাজয়ের ব্যবধান যে মাত্র এক। দুই ওভারে ৩৬ রানের সমীকরণ দুই বলে দুই করলেও শেষ হিসাবটা মেলাতে পারেননি ডেভিড মিলার। তাই তো শেষ বলটা গুজরাটের জন্য রোমাঞ্চকর হয়ে থাকলেও, দিল্লির কাছে যে ওটা এক ট্রাজেডি।











