সাত ম্যাচে ছয় ইনিংসে ব্যাট করে ১৮৪ রান। গড় ৩৬-এর কিছু বেশি। স্ট্রাইক রেট ১২৪। পরিসংখ্যানটা সাব্বির রহমানের। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে করা এই পারফরম্যান্স কি স্বস্তি ফেরাল ভক্তকূলের মনে? সাব্বির নিজে কি পারলেন সন্তুষ্ট করতে বা হতে?
বাংলাদেশ ক্রিকেটে আজন্ম এক আক্ষেপ হয়ে থাকা নামগুলোর যে তালিকা, তার মধ্যে সাব্বিরকে সবার আগেই পাবেন। যেরকম সক্ষমতা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, তা সময়ের তাড়নায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। কালে ভদ্রে ঝলক এসেছে ব্যাটে, তবে ধারাবাহিকতার সঙ্গে সাব্বিরের আড়ি সেই শুরু থেকেই।
তবুও নিজের দিনে তিনি সর্বেসর্বা। একবার ব্যাটে বলে লাগা শুরু হলে কী হতে পারে, তা সবারই জানা। বাংলাদেশে হার্ড হিটার ব্যাটার নেই বললেই চলে। সাব্বির সেই শূন্যস্থান পূরণ করবেন, এই আশা নিয়েই বুক বেঁধেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট। তবে ব্যক্তিগত জীবনযাপন, ফর্মহীনতা, একটু বিচক্ষণতার অভাব, এসব সাব্বিরকে টেনে ধরেছে পেছন থেকে। যতটুকু ক্ষমতা ছিল, তা আর দেখানোর সুযোগ ঠিকঠাক পেলেন কোথায়?
এখন সাব্বিরের বয়সের সংখ্যা ৩৪। যারা স্বপ্ন দেখেছিল তাঁকে নিয়ে, তা ফিকে হয়ে গেছে। অভিজ্ঞতা বাড়লে ভালো কিছু হবে, এই আশাটাও এখন নিভে যাওয়ার আগে প্রদীপের শেষ ধোঁয়া। তবুও তো কিছু থাকে, শেষ দেখার ইচ্ছেটাও আমৃত্যু জেঁকে বসে সবার মাঝে। চার বছর বাদে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো একটা দলে জায়গা পাওয়া সাব্বিরের ফেরার শেষ একটা সুযোগ ছিল।

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলা টি-টোয়েন্টি সিরিজে মোটাদাগে ব্যর্থ হয়েছেন সাব্বির। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতেই হতো। নইলে চিরতরেই প্রত্যাবর্তনের সব দরজা বন্ধ হতো সাব্বিরের জন্য।
সেখানে নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার দরকার পড়েনি সাব্বিরের। অপেক্ষা শেষ হলো হোবার্ট অ্যাকাডেমির বিপক্ষে। ব্যস, শুরুর দিনই বাজিমাত। ৪৫ বলে ৫৯ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস উপহার দিলেন। আসরটা যে মন্দ কাটবে না, তার সেই বার্তাই ছিল।
তবে ওই যে ধারাবাহিকতার অভাব। সেটা আরও একবার জেঁকে বসল ঘাড়ে। পর পর দুই ম্যাচে পাঁচ এবং ছয় রান করেই ফিরলেন সাজঘরে। না, আর হবে না ওঁকে দিয়ে। এই রব উঠল বেশ জোরেসোরে। তবে এরপরই নিউজিল্যান্ড এ দলের বিপক্ষে ৬২ রানের ইনিংস সব শঙ্কা উড়িয়ে দিল যেন। পরের ম্যাচেই আবার নর্দান টেরিটরি স্ট্রাইকের বিপক্ষে ৪৭ রানের দায়িত্বশীল নক সাব্বিরের পরিণত মানসিকতা সামনে আনল। সেমিফাইনালে তাই প্রত্যাশা ছিল, তবে বড় মঞ্চে পাঁচ রান করেই ফিরে গেলেন।

তবে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে আরিফুল ইসলামের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক সাব্বিরই। আরিফুলের ২১৯-এর বিপরীতে তিনি করেছেন ১৮৪। তবে পার্থক্যটা সাব্বিরের ইমপ্যাক্টে। ম্যাচ জেতানো নকগুলো এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। যদিও স্ট্রাইক রেটের দিকে তাকালে চেনা সাব্বিরকে পাওয়া যাবে না। ১২৪ সংখ্যাটা নিশ্চয় সাব্বিরের সঙ্গে কোনোভাবেই যায় না।
সেমিফাইনাল হেরে বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে আসর থেকে। তবে শুরুর প্রশ্নটা আরও একবার টানতে হয়, সাব্বিরের পারফরম্যান্স কি সন্তুষ্ট হওয়ার মতো? ব্যর্থ বলা যাবে না, আবার খুব বেশি সফল সেটাও না। এক কথায় বললে মোটামুটি। এবার যদি প্রশ্ন করা হয়, এই মোটামুটি পারফরম্যান্স কি জাতীয় দলে ফেরার জন্য যথেষ্ট, সোজাসাপ্টা উত্তর না।










