বিপিএল বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্রিকেটারদের আয়ে বড় ধাক্কা

বোর্ড পরিকল্পনা করছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বিপিএলের বদলে জাতীয় ক্রিকেট লিগ আয়োজনের, কিন্তু সেই কাঠামোয় পারিশ্রমিকের ফারাকটা আকাশ-পাতাল।

বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল নীতিগতভাবেই এবার বিপিএল আয়োজনের পক্ষে নন। কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, গত দুই আসরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অনিয়ম আর কমপ্লায়েন্স-না-মানার মাশুল গুনতে গিয়ে বোর্ডের ঘাড়ে চেপেছে প্রায় চল্লিশ কোটি টাকার লোকসান।

যে টুর্নামেন্ট থেকে বোর্ডের লাভবান হওয়ার কথা, সেখান থেকেই যদি বছরে বছরে এমন ক্ষতি গুনতে হয়, তাহলে জোড়াতালি দিয়ে সেই টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার আর মানে দেখছেন না তিনি। রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী আর ঢাকা ক্যাপিটালসের মতো তুলনামূলক নির্ঝঞ্ঝাট ফ্র্যাঞ্চাইজিরাও শেষ পর্যন্ত বোর্ডের এই যুক্তি মেনে নিয়েছে, একটা কালো দাগমুক্ত বিপিএলের আশায় এবারের মতো মাঠের বাইরে থাকতে রাজি হয়েছে।

কিন্তু সমস্যা হলো, বোর্ড আর ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা একমত হলেও যাঁরা আসলে খেলেন, সেই ক্রিকেটাররা এই সিদ্ধান্তে খুশি নন। কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুনের নেতৃত্বে জাতীয় দলের সিনিয়র ক্রিকেটাররা নিজেদের মধ্যে বসে ঠিক করেছিলেন, বিপিএল না হলে যে আর্থিক ধাক্কা তাঁদের সইতে হবে, তার একটা বিকল্প ব্যবস্থা চাই।

বোর্ড পরিকল্পনা করছে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে বিপিএলের বদলে জাতীয় ক্রিকেট লিগ আয়োজনের, কিন্তু সেই কাঠামোয় পারিশ্রমিকের ফারাকটা আকাশ-পাতাল। বিপিএলে যাঁরা চল্লিশ থেকে ষাট লাখ টাকা বা তারও বেশি পান, মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা মুস্তাফিজুর রহমানের মতো তারকারা, তাঁদের হাতে এনসিএল থেকে আসবে সেই অঙ্কের বড়জোর দশ ভাগের এক ভাগ।

অথচ যাঁরা পাঁচ-সাত লাখ টাকার মতো পান, ‘ডি’ কিংবা ‘ই’ ক্যাটাগরির তুলনামূলক কম পরিচিত ক্রিকেটাররা, তাঁদের ক্ষতিটা এতটা প্রকট নয়। ফলে ক্ষতির ভারটা মূলত গিয়ে পড়ছে দলের সবচেয়ে বড় তারকাদের কাঁধেই, আর সেই বৈষম্যই র বৈঠকে সমাধানহীন থেকে গেছে।

এই আর্থিক ধাক্কাটা অবশ্য নতুন নয় ক্রিকেটারদের জন্য। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় বাংলাদেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্রিকেটাররা তখনই একটা বড় সুযোগ আর সেই সঙ্গে আয়ের একটা অংশ হারিয়েছিলেন। এখন বিপিএলও অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সেই ক্ষতিটা যেন পুরনো ক্ষততেই নতুন করে চাপ তৈরি করল। একটার পর একটা টুর্নামেন্ট হাতছাড়া হয়ে যাওয়ায় ক্রিকেটারদের বার্ষিক আয়ের হিসাবটাই এখন এলোমেলো।

আগামী পয়লা সেপ্টেম্বর আবার বোর্ডের মুখোমুখি বসবেন ক্রিকেটাররা, নিজেদের অবস্থান নিয়ে দর কষাকষি করতে। বোর্ড যদি ক্ষতিপূরণের একটা গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দিতে পারে, তাহলে হয়তো এই জট খুলবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় — বিসিবি আর ক্রিকেটারদের এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থ রক্ষা পাবে, বোর্ডের হিসাবের খাতা, নাকি মাঠে ঘাম ঝরানো ক্রিকেটারদের সংসার?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link