বাংলাদেশের প্রথম বাধা জিম্বাবুয়ে!

সবশেষ দেখায় জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ খোয়াতে হয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম পরীক্ষা সেই জিম্বাবুয়েই। তাই হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা যেমন আছে, তেমনই আত্মবিশ্বাসটাও প্রবল সংকটে। এই সুযোগটাই লুফে নেবে কি জিম্বাবুয়ে, নাকি ফেবারিট তকমা নিয়ে নামা বাংলাদেশ তুলে নেবে সহজ জয়।

সবশেষ দেখায় জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ খোয়াতে হয়েছে। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম পরীক্ষা সেই জিম্বাবুয়েই। তাই হোঁচট খাওয়ার শঙ্কা যেমন আছে, তেমনই আত্মবিশ্বাসটাও প্রবল সংকটে। এই সুযোগটাই লুফে নেবে কি জিম্বাবুয়ে, নাকি ফেবারিট তকমা নিয়ে নামা বাংলাদেশ তুলে নেবে সহজ জয়।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা মূলত বোলিং বিভাগ। পেস আর স্পিনের ভারসাম্যটা বর্তমান সময়ের সেরা। এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্বস্তি লুকিয়ে। তবে সিরিজ জিততে গেলে তো আর এক বিভাগে নজর দিলে হবে না। ব্যাটিংয়ে চায় সমাধান।

ওপেনারদের ভালো শুরু দরকার, মিডল অর্ডারে লিটন দাস-তাওহীদ হৃদয়কে নিতে হবে গুরুদায়িত্ব। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা, টপ অর্ডার ভালো করলে মিডল অর্ডার ব্যর্থ হয়, আবার উল্টো চিত্রও দেখা যায়। এখানেই মূলত সমাধানটা দরকার।

বোলিংয়েও তাই প্রথম থেকেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে মুস্তাফিজুর রহমানদের। নতুন বলে উইকেট তুলে নিতে পারলে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংকে চাপে ফেলা সম্ভব। আর মাঝের ওভারগুলোয় রান আটকে রেখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়াই হবে মূল কৌশল। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের অভিজ্ঞ ব্যাটারদের থিতু হওয়ার সুযোগ দেওয়া যাবে না। জিম্বাবুয়ে একবার মোমেন্টাম পেয়ে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে।

অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের জন্যও এই ম্যাচ নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ার মঞ্চ। সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে তিনটি ম্যাচেই হেরেছে তারা। তবে শেষ ম্যাচে মাত্র এক উইকেটের ব্যবধানে পরাজয় বলে দেয়, লড়াই করার ক্ষমতা তাদের আছে। সিকান্দার রাজা ও ক্রেইগ আরভিনের মতো অভিজ্ঞদের ওপর থাকবে বড় দায়িত্ব।

ব্যাট হাতে জুটি গড়ার পাশাপাশি বল হাতেও বাংলাদেশের ব্যাটারদের ভুল করতে বাধ্য করতে চাইবে তারা। কাগজে-কলমে বাংলাদেশ ঢের এগিয়ে ঠিকই, তবে শেষ দেখায় সিরিজ হাতছাড়ার ক্ষত এখনও শুকোয়নি। তাই তো সেই ক্ষতে আরও একবার দাগ দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। আর লিটনদের চাওয়া শুশ্রূষা!

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link