৩৩ বছর বয়সী একজন উইকেটরক্ষকের ওপর কখন বাজি ধরা হবে? অবশ্যই, যখন তাঁর ঘরোয়া ক্রিকেটে থাকে রানের পাহাড়। যখন থাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। কিংবা এমন কোনো এক্স-ফ্যাক্টর, যা তাঁকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে। তবে, কোনো মানদণ্ডেই ইরফান শুক্কুরের জাতীয় দলের রাডারে চলে আসাকে গ্রহণযোগ্যতা দেওয়া যায় না।
এই জায়গাটা দিব্যি আকবর আলীকে দেওয়া যেত। এতগুলো দল দেশের বাইরে খেলছে, কোনো জায়গাতেই তাঁর নাম না থাকাটা একটা আক্ষেপই বটে। এমনকি রাখা যেত জাকের আলী অনিককেও। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট দলে থাকলেও পরে লিটন দাস ফিটনেস ফিরে পাওয়ায় বাদ পড়েন। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিটাও কিন্তু হচ্ছে সেই অস্ট্রেলিয়াতেই। সেখানে জাকের আলীকে টপকে কিভাবে ইরফান শুক্কুর জায়গা পায়?
বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাঁর পারফরম্যান্স বরং প্রশ্নটাই আরও বড় করেছে। পাঁচ ইনিংসে রান মাত্র ৭২, স্ট্রাইক রেট ১০৯.০৯। এক ম্যাচে ৪৩ রান করেন বটে, সেখানেও তিনি ছয় বলে তিন রান করা অবস্থায় একটা জীবন পান।

আকাশে তুলে দেওয়া সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছিল প্রতিপক্ষ। ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিসংখ্যানও শুক্কুরের পক্ষে খুব জোরালো কোনো গল্প বলে না। বড় মাপের ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি কখনোই। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে রান হাজারের সামান্য ওপরে, গড় বিশের নিচে। বিপিএলে দল পেলেও একাদশে জায়গাটা কখনোই তাঁর জন্য নিশ্চিত নয়।
চাইলে নুরুল হাসান সোহানকেও এই জায়গাটা দেওয়া যেত, লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) থেকে ফেরার পর তিনি কার্যত খেলার বাইরেই আছেন। শুক্কুরকে যেখানে টপ এন্ডে অধিনায়ক করেই পাঠানো হয়েছে, সেখানে টপ এন্ডে অধিনায়ক হিসেবে সোহানেরই এগিয়ে থাকার কথা।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে দল নির্বাচনের মাপকাঠি আসলে কী? পারফরম্যান্স, সম্ভাবনা কিংবা ভবিষ্যৎ – এখানে উত্তর যাই হোক না কেন কোনো মানদণ্ডেই অধিনায়ক হয়ে ইরফান শুক্কুরের অস্ট্রেলিয়া সফর করে আসাটা ধোপে টিকে না।











