টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের সামনে কঠিন সমীকরণ

দুইবার ফাইনালে উঠেও ট্রফির স্বাদ পায়নি ভারত—২০১৯-২১ চক্রে নিউজিল্যান্ডের কাছে, ২০২১-২৩ চক্রে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের যন্ত্রণা এখনও তাজা। এবার প্রতিপক্ষ সেই অস্ট্রেলিয়াই, ঘরের মাঠে, পাঁচ টেস্টের দীর্ঘ পরীক্ষায়। গিলের দল কি পারবে সেই পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দিতে, নাকি লিটন-শান্তরাই চতুর্থ স্থান থেকে চমকে দেবেন গোটা উপমহাদেশকে—ফাইনালের মঞ্চ শেষ পর্যন্ত কার হাতে ধরা দেবে?

কলম্বোর পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার প্রতিরোধ যেন এক অদৃশ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়াল ভারতের সামনে। সিরিজ জিতেও যে জয় অসম্পূর্ণ থেকে গেল, তার মাশুল গুনতে হচ্ছে এখন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়ে। ২৪ পয়েন্টের বদলে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ভারত এখন পয়েন্ট তালিকায় পাঁচে, পিসিটি ৫১.৫২ শতাংশ—একটা সংখ্যা যা এক লাফে সহজ পথকে বদলে দিয়েছে কঠিন পাহাড়ে।

তবু হাল ছাড়েননি শুবমান গিল। কলম্বো টেস্ট শেষে ভারত অধিনায়কের কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, ‘আমি এখনও মনে করি আমাদের ফাইনালে ওঠার বেশ ভালো সুযোগ আছে।’ নিউজিল্যান্ড সফর আর ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ—এই সাত টেস্টের ওপরই এখন নির্ভর করছে ভারতের ভবিষ্যৎ। সাতটিতে জিতলে পিসিটি দাঁড়াবে ৭০.৩৭ শতাংশে, যা প্রায় নিশ্চিতভাবেই খুলে দেবে ফাইনালের দরজা। ছয়টি জয় আর একটি হারেও আশা টিকে থাকবে, পিসিটি পৌঁছাবে প্রায় ৬৫ শতাংশে, যদিও তখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্যদের ফলাফলের দিকেও।

কিন্তু নিউজিল্যান্ডে দুটি টেস্টই হেরে গেলে ছবিটা বদলে যাবে সম্পূর্ণ। তখন অস্ট্রেলিয়াকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েও ভারতের পিসিটি থামবে ৫৯.২৬ শতাংশে—যথেষ্ট নয় নিশ্চিন্ত থাকার জন্য। ইতিহাস অবশ্য বলছে, চূড়ান্ত সীমারেখা সবসময় এক জায়গায় স্থির থাকে না। আগের চক্রে দক্ষিণ আফ্রিকা ৬৯.৪৪ আর অস্ট্রেলিয়া ৬৭.৫৪ শতাংশ নিয়ে ফাইনাল খেলেছিল, তার আগের চক্রে ভারত নিজেই ৫৮.৮০ শতাংশ নিয়ে পৌঁছেছিল ফাইনালে।

বাংলাদেশও এই দৌড়ে নিঃশব্দে টিকে আছে, বরং টেবিলে অবস্থানটা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো। ছয় ম্যাচে চল্লিশ পয়েন্ট নিয়ে পিসিটি ৫৫.৫৬ শতাংশ—ভারতের চেয়েও এগিয়ে, টেবিলে চতুর্থ স্থানে। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষ হওয়ায় চক্রে এখন বাকি ছয়টি টেস্ট, ঘরের মাঠে দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, আরও দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফেব্রুয়ারিতে, আর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বাকি দুটি নভেম্বরে।

ঘরের চার টেস্টের সবকটি জিততে পারলেই পিসিটি উঠে যাবে ৭৩.৩৩ শতাংশে। তার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত একটি জয় যোগ হলে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৭৫.৭৬ শতাংশে, আর ছয়টিতেই জিতলে ৭৭.৭৮ শতাংশ—এমন সংখ্যা নিয়ে ইতিহাসে এখনও কোনো দল ফাইনালের বাইরে থাকেনি। তবে পথটা মসৃণ নয়, দক্ষিণ আফ্রিকা আর ইংল্যান্ডের দুই দলই সহজ নয় বাংলাদেশের জন্য, তাই ভুলের জায়গা বলতে গেলে নেই।

দুইবার ফাইনালে উঠেও ট্রফির স্বাদ পায়নি ভারত—২০১৯-২১ চক্রে নিউজিল্যান্ডের কাছে, ২০২১-২৩ চক্রে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের যন্ত্রণা এখনও তাজা। এবার প্রতিপক্ষ সেই অস্ট্রেলিয়াই, ঘরের মাঠে, পাঁচ টেস্টের দীর্ঘ পরীক্ষায়। গিলের দল কি পারবে সেই পুরনো ক্ষতে প্রলেপ দিতে, নাকি লিটন-শান্তরাই চতুর্থ স্থান থেকে চমকে দেবেন গোটা উপমহাদেশকে—ফাইনালের মঞ্চ শেষ পর্যন্ত কার হাতে ধরা দেবে?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link