এখনও ভারতের সেরা পেসার জহির খানই!

স্রেফ সংখ্যার হিসাব দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে জহির খানের অবদান পরখ করা ঢের বোকামি! কারণ চতুর বোলিং অ্যাকশন, ভীতিকর সুইং, অনবদ্য ভ্যারিয়েশন আর মাস্টারক্লাস সব ডেলিভারির বদৌলতে আজন্ম তিনি ভারতের পেস অভিনবত্বের সেরা প্রতীক হয়ে দর্শক-সমর্থকদের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই পাবেন!

ভারত দলে অনেক নামীদামী পেসারের অভিষেক হয়েছে। কিন্তু জাসপ্রীত বুমরাহ থেকে ইশান্ত শর্মা কিংবা মোহাম্মদ সামি থেকে জাভাগাল শ্রীনাথ—সবাইকে ছাপিয়ে জহির খান আজও ভারতের সেরা পেস বোলারদের তালিকায় অনন্য জায়গা ধরে রেখেছেন। ধুরন্ধর গতির সঙ্গে অসাধারণ চাতুর্য আর ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় পিচের কন্ডিশনকে ব্যবহার করে ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করার অভিনব সামর্থ্যের কারণেই জহিরের এই কীর্তি!

জহিরের গল্পটার শুরু ২০০০ সালের নাইরোবি আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। টুর্নামেন্টটিতে এই তরুণ বাঁহাতি পেসারের গতি এবং নিখুঁত ইয়র্কার কাঁপিয়ে দেয় পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে। অভিষেকেই ব্যাটিং গ্রেট স্টিভ ওয়াহকে সরাসরি এক দুর্দান্ত ফুলার ডেলিভারিতে বোল্ড করে বিশ্বের সামনে নিজের সক্ষমতার জানান দেন তিনি। গতি আর সুইংয়ের সেই অনবদ্য প্রদর্শনীতে ক্রিকেটবিশ্ব তাঁকে ওয়াসিম আকরামের এক যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবিষ্কার করে।

কিন্তু ইনজুরি বারবার এই এক্সপ্রেস পেসারের চমৎকার ক্যারিয়ারে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি হ্যামস্ট্রিং, গোড়ালি আর পিঠের ইনজুরিতে ভুগেছেন ক্যারিয়ারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। প্রতিবার কামব্যাকের পরই আবার নতুন ইনজুরিতে পড়া বহুবার হতাশ করেছে তাঁকে।

তবুও জহির দমে যাননি। বরং লড়েছেন বীরের মতো। নিজের বোলিং অ্যাকশন বদলেছেন, রান-আপ ছোট করেছেন। এতে গতি কিছুটা কমলেও, বৃদ্ধি পেয়েছিল তাঁর বোলিংয়ের ধার, চাতুর্য ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ। এসেছিল সৃজনশীল সব ভ্যারিয়েশনও!

এসজি বল হোক, কিংবা ডিউক, কুকাবুরা—সব বলেই নিজের বোলিং ভেলকি দেখাতে পারঙ্গম ছিলেন জহির! বিশেষ করে নতুন বলকে দুই দিকেই সুইং করানোয় দারুণ দক্ষতা ছিল তাঁর। উপমহাদেশের উইকেটে পুরনো বলে রিভার্স সুইং করাতেও অসামান্য ছিলেন তিনি। আর একারণেই বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটাররা তাঁর বোলিং কারিকুরিতে বিভ্রান্ত হয়ে উইকেট সঁপে দিতেন।

খোদ দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা ব্যাটার ও সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ জহিরের বলের সামনে দাঁড়াতেই রীতিমতো ভয় পেতেন। স্মিথ অকপটে স্বীকার করেন, অনিল কুম্বলের মুখোমুখি হওয়ার আগে অন্তত কিছু রান করার জন্য তিনি জহির খানকে শুরুতে এড়িয়ে চলতে চাইতেন! কুমার সাঙ্গাকারার মতো বিশ্বসেরা ব্যাটারদেরও জহির প্রতিনিয়ত নিজের পাতা ট্যাকটিক্যাল ফাঁদে আটকেছেন।

তবে, জহির খান কেন এখনও ভারতের সেরা পেসার তাঁর উত্তর লুকিয়ে আছে ভিন্ন জায়গায়। আর সেটি হলো, বড় মঞ্চ ও টুর্নামেন্টে তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কার্যকারিতা। ২০০৩ বিশ্বকাপে জাভাগাল শ্রীনাথ এবং আশিশ নেহরার সাথে মিলে ভারতকে ফাইনালে তোলেন তিনি। আর ২০১১ সালের ঘরের মাঠের বিশ্বকাপ ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে আবির্ভূত হয়। নয় ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে তিনি সেই আসরে যৌথ সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেন।

বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম স্পেলের দুর্দান্ত বোলিং ম্যাচকে অনেকটাই ভারতের মুঠোয় নিয়ে আসে। ম্যাচটিতে প্রথম পাঁচ ওভারের তিনটিই মেইডেন ওভার দিয়ে শুরুতেই টিম ইন্ডিয়াকে ব্রেকথ্রু এনে দেন জহির। শেষ পর্যন্ত ভারত বিশ্বজয় করলেও, তিনি আলোচনার বাইরেই রয়ে যান! অথচ, তিনটি বিশ্বকাপে ২০.২২ গড়ে ৪৪ উইকেট নিয়ে ভারতের বোলারদের মধ্যে জাভাগাল শ্রীনাথের সাথে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি।

জহির কেবল বল হাতে একাই লড়াই করেননি। তিনি ছিলেন ভারতীয় দলের পেস আক্রমণের প্রধান চালিকাশক্তি ও সফল মেন্টর। মিড-অফ কিংবা মিড-অনে দাঁড়িয়ে তরুণ বোলারদের ক্রমাগত পরামর্শ ও সাহস দেওয়া তাঁর দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত হয় ক্যারিয়ারের শেষ দিকে! তাঁর দেখানো পথেই জাসপ্রীত বুমরাহ কিংবা ভুবনেশ্বর কুমারদের পেস বিপ্লবের চমৎকার ভিত গড়ে ওঠে।

ক্রিকেট বোদ্ধাদের চোখে জহির ছিলেন কপিল দেব, শ্রীনাথ ও প্রসাদদের যুগের সাথে আধুনিক ভারতের ফাস্ট বোলিংয়ের এক মজবুত সেতুবন্ধন। ম্যান ইন ব্লুজদের হয়ে ৯২ টেস্টে ৩১১ এবং ২০০ ওয়ানডেতে ২৮২ শিকার করেছেন ১৯৭৮ সালে মহারাষ্ট্রের শ্রীরামপুরে জন্মানো এই পেসার। টেস্টে কপিল দেবের পর ভারতের দ্বিতীয় সফলতম পেসারও তিনিই।

এতকিছুর পরও স্রেফ সংখ্যার হিসাব দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে জহির খানের অবদান পরখ করাটা হয়ত ঢের বোকামি! কারণ চতুর বোলিং অ্যাকশন, ভীতিকর সুইং, অনবদ্য ভ্যারিয়েশন আর মাস্টারক্লাস সব ডেলিভারির বদৌলতে আজন্ম তিনি ভারতের পেস অভিনবত্বের সেরা প্রতীক হয়ে দর্শক-সমর্থকদের হৃদয়ের মণিকোঠায় ঠাঁই পাবেন! এজন্যই এখনও সেরা তিনি!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link