স্প্যানিশ ফুটবলের শুদ্ধতম জ্যামিতি

জাভিয়ার হার্নান্দেজ ক্রেনেস, সংক্ষেপে ‘জাভি’ - এমন এক নাম, যা উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের চারপাশ না দেখেই মুহূর্তের মধ্যে প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিখুঁত ছুরি চালানোর দৃশ্য।

জাভিয়ার হার্নান্দেজ ক্রেনেস, সংক্ষেপে ‘জাভি’ – এমন এক নাম, যা উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে মাঠের চারপাশ না দেখেই মুহূর্তের মধ্যে প্রতিপক্ষের রক্ষণে নিখুঁত ছুরি চালানোর দৃশ্য।

​ফুটবল মাঠে অনেকেই দ্রুত দৌড়ান, কেউ জাদুকরী ড্রিবলিং করেন, আর কেউবা দূরপাল্লার শটে গোল জাল ছুঁয়ে দেন। কিন্তু খুব কম খেলোয়াড় আছেন যারা পুরো ম্যাচের ছন্দ আর সময়কে একাই স্তব্ধ করে দিতে পারতেন। জাভি ছিলেন সেই বিরল প্রজাতির সর্বকালের সেরা উদাহরণ।

১৯৮০ সালে কাতালোনিয়ার তারাশায় জন্ম নেওয়া এই ফুটবল স্থপতির যাত্রা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, বার্সেলোনা অ্যাকাডেমি লা মাসিয়ায়। বাবার হাত ধরে ক্লাবে আসা কিশোর জাভি ইয়োহান ক্রুইফের ‘টোটাল ফুটবল’ দর্শনে নিজের ভিত্তি তৈরি করেন।

বার্সেলোনার মূল দলে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, তৎকালীন কোচ লুইস ভান গালের হাত ধরে। শুরুতে তাঁকে পেপ গার্দিওলার বিকল্প ভাবা হলেও তিনি দ্রুতই নিজের একক পরিচয় তৈরি করেন। মাঠে ফাঁকা জায়গা বা স্পেস খুঁজে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গির জন্য স্প্যানিশ ফুটবলে তাঁকে বলা হতো ‘স্পেসের জাদুকর’। তাঁর বিখ্যাত ৩৬০ ডিগ্রি টার্ন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে মুহূর্তে বিভ্রান্ত করে দিত।

​জাভির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মহাকাব্যিক অধ্যায়গুলোর একটি ২০০৯ সালের এল ক্লাসিকো। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ৬-২ গোলে বিধ্বস্ত করার ম্যাচে জাভি একাই চারটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন, যা এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় রেকর্ড। পরের বছর ২০১০ সালে ন্যু ক্যাম্পে রিয়াল মাদ্রিদকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহাসিক ম্যাচেও প্রথম গোলটি এসেছিল এই কারিগরের পা থেকেই।

জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি লিখেছেন অনন্য ইতিহাস। স্পেনের ২০০৮ ইউরো, ২০১০ বিশ্বকাপ এবং ২০১২ ইউরো জয়ের ট্রিপল ক্রাউনের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন জাভি। ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে তিনি সর্বাধিক নিখুঁত পাস দেন।

​বার্সেলোনার হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছরে চারটি চ্যাম্পিয়নস লিগ ও আটটি লা লিগাসহ ২৫টি ট্রফি জেতার পর ২০১৫ সালে ট্রেবল জয়ের মাধ্যমে ন্যু ক্যাম্পকে বিদায় জানান এই কিংবদন্তি।

​খেলোয়াড়ি জীবন শেষে নতুন অধ্যায় শুরু হয় ডাগআউটে। কাতারের আল-সাদে সফল কোচিংয়ের পর ২০২১ সালে চরম সংকটে থাকা প্রিয় ক্লাব বার্সেলোনার কোচের দায়িত্ব নেন। তাঁর ট্যাকটিক্যাল দক্ষতায় ২০২২-২৩ মৌসুমে তরুণদের নিয়ে ক্লাবকে আবারও লা লিগা শিরোপা এনে দেন তিনি।

পরিসংখ্যান দিয়ে জাভিকে মূল্যায়ন করা কঠিন, তাঁকে অনুধাবন করতে হয় ফুটবল খেলার নান্দনিকতায়। আজকের ফুটবলে যেখানে গতি, শারীরিক শক্তি আর ডাটা-অ্যানালিটিক্সের দাপট সবচেয়ে বেশি, সেখানে জাভি হার্নান্দেজ কেবল একজন সাবেক ফুটবলার নন, তিনি এক বিলুপ্তপ্রায় দর্শনের স্মারক।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link