ফের মাদ্রিদের ম্যাচ, ফের এমবাপ্পে-বেলিংহাম রূপকথা

মালাগার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ে আসরে টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুরে পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে ছিল কেবলই কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের যুগলবন্দীর রূপকথা।

মালাগার বিরুদ্ধে দাপুটে জয়ে আসরে টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনহোর রিয়াল মাদ্রিদ। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে ছিল কেবলই কিলিয়ান এমবাপ্পে ও জুড বেলিংহামের যুগলবন্দীর রূপকথা।

বেলিংহাম নিজে গোল করার পাশাপাশি করিয়েছেন, আবার লক্ষ্যভেদ করেছেন এমবাপ্পেও। চলতি আসরে রিয়ালের করা মোট দশটি গোলের আটটিতেই রয়েছে এই দুই মহাতারকার সরাসরি অবদান।

গেল বিশ্বকাপে দশ গোল করে টপ স্কোরার হওয়া এমবাপ্পে এবং সাত গোল করে তালিকার তিনে থাকা বেলিংহাম জাতীয় দলের সেই বিধ্বংসী ফর্মকে যেন ক্লাব ফুটবলেও সচল করেছেন। অথচ ঠিক আগের মৌসুমে আলভারো আরবেলোয়া কিংবা জাবি আলোনসোর ট্যাকটিক্সে চরম ফ্লপ ছিলেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।

মরিনহোর ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস এবং বেলিংহাম-এমবাপ্পে জুটির এই অবিশ্বাস্য রূপান্তরের পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট কিছু কৌশলগত পরিবর্তন। আলোনসো ও আরবেলোয়ার অধীন বেলিংহামকে ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনের সময় মাঝমাঠের অনেক নিচে নেমে খেলতে হতো, যা তাঁর স্বাভাবিক আক্রমণের ধার নষ্ট করে দিয়েছিল।

মরিনহো তাকে মাঝমাঠের সেই বাড়তি রক্ষণের বোঝা থেকে পুরোপুরি মুক্ত করে স্বাধীন ‘নাম্বার টেন’ ভূমিকা দিয়েছেন। এখন এমবাপ্পে যখন ফ্রন্টলাইনে প্রতিপক্ষের সেন্টা ব্যাকদের ব্যস্ত রাখেন কিংবা উইংয়ে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন, বেলিংহাম সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে দ্রুত বক্সে ঢুকে গোল করছেন এবং সুযোগ তৈরি করছেন।

এ ছাড়া মরিনহোর বিখ্যাত দ্রুত কাউন্টার ক্যাটাক বা ভার্টিক্যাল ট্রানজিশন কৌশলে বেলিংহামকে করা হয়েছে প্রধান অনুঘটক।  মাঝমাঠে বল পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি প্রতিপক্ষের স্পেস ব্যবহার করে এমবাপ্পের দিকে নিখুঁত ডিফেন্স স্প্লিটিং পাস বাড়াচ্ছেন। মালাগার বিরুদ্ধে এই দুজন ফুটবলারের রসায়ন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে তছনছ করে দিয়েছে।

​একই সাথে মরিনহোর ৪-২-৩-১ ফরমেশনে দুজন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার থাকায় বেলিংহামকে এখন আর বলের পেছনে অহেতুক ক্লান্তিহীন দৌড়াতে হয় না। তাকে শুধু ফ্রন্টলাইনে প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই নস্যাৎ করার জন্য হাই-প্রেসিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে তার শারীরিক শক্তি সঞ্চিত থাকছে, যা ম্যাচের ফাইনাল থার্ডে গোল করা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বেলিংহামকে চরম কার্যকারিতা এনে দিচ্ছে। মরিনহোর এই কৌশলগত চালই বেলিংহামকে নতুন প্রাণ এনে দিয়েছে এবং এমবাপ্পের সাথে তার জুটি রিয়ালকে আবারও অপ্রতিরোধ্য করে তুলছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link