হাল্যান্ড-চেরকির ঝড়ে দাপুটে জয় ম্যানচেস্টার সিটির!

প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় পেল ম্যানচেস্টার সিটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফরাসি দলে বেঞ্চে কাটানো চেরকি এবং যথারীতি হাল্যান্ডের যৌথ প্রদর্শনীতে ম্যাচে ফেরার সুযোগই পায়নি প্যালেস।

​প্রিমিয়ার লিগে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় পেল ম্যানচেস্টার সিটি। ২০২৬ বিশ্বকাপে ফরাসি দলে বেঞ্চে কাটানো চেরকি এবং যথারীতি হাল্যান্ডের যৌথ প্রদর্শনীতে ম্যাচে ফেরার সুযোগই পায়নি প্যালেস। বদলি নেমে প্রথম ম্যাচে জেতানোর পর এবার শুরু থেকেই একাদশে আলো ছড়ান চেরকি। এই ম্যাচ দিয়েই এঞ্জো মারেস্কার ট্যাকটিক্যাল বোর্ডে নিজের অবস্থান পাকা করলেন তিনি।

​​ম্যাচে আক্রমণ আর গোলবন্যার চিত্রনাট্য লেখেন চেরকি ও হাল্যান্ড জুটি। সেন্টার অব দ্য বক্স থেকে দুর্দান্ত ড্রপ হেডারে গোলের খাতা খোলেন হাল্যান্ড, আর শেষদিকে বাঁ পায়ের জোরালো শটে চার নম্বর গোলটি করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।

অন্যদিকে চেরকির পারফরম্যান্স ছিল এক কথায় অনবদ্য। ডি বক্সের ভেতর দারুণ পজিশনিং নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরেই ডি বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক দর্শনীয় ডান পায়ের শটে প্যালেসের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে পান দ্বিতীয় গোল।

​মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বোর্নমাউথের বিপক্ষেও একই রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছিলেন চেরকি। ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় মাঠে নেমে একাই দুই অ্যাসিস্ট করে জয় ছিনিয়ে এনেছিলেন। এবারও হাল্যান্ডের সঙ্গে মাঠের জুটিতে ঠিক একইরকম প্রভাব বিস্তার করলেন।

​গত ২০২৫-২৬ সিজনে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে চেরকির নয়টি গোল ও ১৪টি অ্যাসিস্ট ছিল। প্রিমিয়ার লিগে ৩৩ ম্যাচে চার গোল ও ১২ অ্যাসিস্ট করেছেন। ২০২৬-২৭ মৌসুমে মারেস্কার সিস্টেমে চেরকি এখন সিটির আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।

​ট্যাকটিক্যালি চেরকির খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাঁর পজিশনাল ফ্লুইডিটি ও উভয় পায়ে সমান দক্ষতা। মারেস্কা তাকে হাফ স্পেসে স্বাধীনভাবে খেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। প্রতিপক্ষের রক্ষণের মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় বল রিসিভ করে চেরকি যেভাবে দ্রুত টার্ন নেন, তা প্রতিপক্ষের মিডফিল্ড ও ডিফেন্সের মধ্যকার দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়।

তাঁর এই পজিশনিং ডিফেন্ডারদের বাধ্য করে তাকে মার্ক করতে বাইরে বেরিয়ে আসতে, যার সরাসরি সুযোগ নেন আর্লিং হাল্যান্ড। চেরকির দূরপাল্লার শুটিং থ্রেট ডিফেন্সকে ওপরে উঠতে বাধ্য করে আর হাল্যান্ড বক্সে ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। আক্রমণভাগে চেরকির ক্রিয়েটিভিটি ও হাল্যান্ডের নিখুঁত ফিনিশিংয়ের এই কম্বিনেশনই এখন এঞ্জো মারেস্কার সবচেয়ে বড় ট্রাম্পকার্ড।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link