বুন্দেসলিগা মানেই যেন মাইকেল ওলিসের জয়গান!

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার সবুজ গালিচায় আলো যখনই এক জায়গায় থমকে দাঁড়ায়, বুঝে নিতে হয় বলটা মাইকেল ওলিসের পায়ে।

​অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার সবুজ গালিচায় আলো যখনই এক জায়গায় থমকে দাঁড়ায়, বুঝে নিতে হয় বলটা মাইকেল ওলিসের পায়ে। বুন্দেসলিগার ২০২৬-২৭ সিজনের সূচনা ম্যাচে ভিএফবি স্টুটগার্টের বিপক্ষে বায়ার্ন মিউনিখের পারফরম্যান্সের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে – এই বায়ার্ন এখন শুধুই গতি কিংবা পজেশনভিত্তিক দল নয়। ওলিসের সাথে হ্যারি কেন ও লুইস ডিয়াজের দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক সুসংগঠিত মেশিন।

স্টুটগার্টের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ২১ মিনিটে জশুয়া কিমিশের কর্নার থেকে দায়োত উপামেকানো গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে নিলেও পুরোটা সময় আক্রমণের নেপথ্য কারিগর ছিলেন ওলিসে। প্রথমার্ধে অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও দল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি, উল্টো বিরতির পরপরই গোল হজম করে স্তব্ধ হয়ে যায় অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনা।

কিন্তু সেই নীরবতা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি ওলিসে। ৫৫ মিনিটে সেন্টার অব দ্য বক্সের বাইরে থেকে তাঁর বাম পায়ের সিগনেচার বাঁকানো শট বল জালে জড়ান। আরও একবার প্রমাণ করেন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কখন কীভাবে নিজের হাতে তুলে নিতে হয়, তা ওলিসের চেয়ে ভালো এই মুহূর্তে খুব কম খেলোয়াড়ই বোঝেন।

এমনকি ৬৩ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় আরেকটি অসাধারণ গোল করে গ্যালারি মাতিয়েছিলেন তিনি, তবে সামান্য অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল না হলে নামের পাশে আরও একটি গোল থাকতো এই ফরাসি তারকার।

​গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ ওলিসেকে দলে ভেড়াতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছিল। তবে বায়ার্ন মিউনিখ যেকোনো মূল্যে তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যার মূল কারণ মাঠের ওপর তার অবিশ্বাস্য প্রভাব।

গত বুন্দেসলিগা মৌসুমে ১৫টি গোল করার পাশাপাশি লিগের সর্বোচ্চ ১৯টি অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। শুধু ক্লাবেই নয়, ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এ সর্বোচ্চ সাতটি অ্যাসিস্ট করে বিশ্বমঞ্চেও নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি। এমন একজন ফুটবলারকে বায়ার্ন কেন, কেউই হাতছাড়া করতে চাইবে না।

ট্যাকটিক্যাল দিক থেকে ওলিসেকে শুধুই একপ্রান্তের উইঙ্গার বলা ভুল হবে। তিনি মূলত মাঠের ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়া একজন ‘ইনসাইড-ফরোয়ার্ড’। ডান প্রান্ত ধরে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের সেন্ট্রাল ডিফেন্স ও ফুলব্যাকের মাঝের খালি জায়গাগুলো সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করেন তিনি।

ওলিসের চতুর্দিকের স্থান অনুধাবনের ক্ষমতা এতটাই নিখুঁত যে বক্সে থাকা স্ট্রাইকারের পজিশন একপলকেই ধরে ফেলতে পারেন, যা তাঁর একের পর এক অ্যাসিস্টের মূল চাবিকাঠি। এছাড়া প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা চেপে ধরলেও দারুণ ড্রিবলিং কৌশলে বল দখলে রেখে প্রেসার রিলিজ করার ক্ষমতা তাকে অনন্য করে তুলেছে।

​সব মিলিয়ে বায়ার্ন মিউনিখ যে তাদের ভবিষ্যৎ আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ওলিসেকে বেছে নিয়েছে, তা নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের কোচদের জন্য এই ফরাসি তারকাকে থামানোর কৌশল বের করাই এখন বুন্দেসলিগার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link