সেমিফাইনালেই শেষ বাংলাদেশের যাত্রা!

অবশেষে থামল বাংলাদেশের জয়রথ। ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে মাত্র ১০২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে প্রাণপণ লড়াই করলেন বোলাররা। মোহাম্মদ রুবেল আরও একবার বনে গেলেন ত্রাণকর্তা। তবে কোনো কিছুতেই আর কিছু হলো না। টানটান উত্তেজনার ইতি টেনে এক উইকেটের জয় তুলে নিল ভিক্টোরিয়া।

অবশেষে থামল বাংলাদেশের জয়রথ। ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাকাডেমিকে মাত্র ১০২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে প্রাণপণ লড়াই করলেন বোলাররা। মোহাম্মদ রুবেল আরও একবার বনে গেলেন ত্রাণকর্তা। তবে কোনো কিছুতেই আর কিছু হলো না। টানটান উত্তেজনার ইতি টেনে এক উইকেটের জয় তুলে নিল ভিক্টোরিয়া।

আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের সামনে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ ছিল। তিন ওভারের আগেই বিনা উইকেটে ২৬ রান সেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। টানা ব্যর্থতার পর একাদশে জায়গা হারানো, আবার সেমিফাইনালের মঞ্চে ফিরে আসা, জিসান আলমের ওপর প্রত্যাশা একটু বেশি। ধুমধুমার ব্যাটিংয়ে সেটা মেটাচ্ছিলেন তিনি। ৪৯ রানে দুই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হাবিবুর রহমান সোহান ব্যর্থ হয়েছেন। ১৯ রান করা আরিফুল পারেননি ইনিংসটাকে টেনে নিয়ে যেতে। এরপরই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার।

২০ বলে ৩০ রান করা জিসান ফিরে যান, ইরফান শুক্কুর বিদায় বলেন রানের খাতা না খুলেই। সাব্বির রহমান প্রয়োজনের মুহূর্তে ব্যর্থ হলেন। এরপর আর বাংলাদেশের জন্য কিছুই থাকে না। ব্যাটারদের ভয়াবহ ব্যর্থতার দিনে ১০১ তুলতেই সব শেষ হয়ে যায়।

সেমিফাইনালের মতো মঞ্চে ১০২ রানের লক্ষ্য ছুড়ে জয়ের আশা করা বোকামি। তবে চেষ্টা করতে দোষ কী। দলের স্ট্রাইক বোলার মোহাম্মদ রুবেলের হাতে বল তুলে দেওয়া হলো শুরুতেই। পুরো আসরজুড়ে দাপট দেখানো রুবেল অবশ্য নিরাশ করেননি। ইনিংসের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই উইকেট তুলে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখেন তিনি।

তবে সেই বিপর্যয় দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। দ্বিতীয় উইকেট তুলতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয় ৩৮ রান পর্যন্ত। শামীম পাটোয়ারী আশা দেখান দলকে। আরও এক উইকেট তিনি নেন। তবে জয়ের বন্দরে একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে ভিক্টোরিয়া।

ম্যাচে ফেরান মোহাম্মদ রুবেল। দুর্দান্ত এক ক্যাচ তালুবন্দী করে শেষবেলায় আশা দেখান বাংলাদেশকে। এরপরই বল হাতে আসেন ১৩তম ওভারের মাথায়। পরপর দুই বলে দুই ব্যাটারের স্টাম্প উপড়ে দেন। ৮১ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে ভিক্টোরিয়া। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা ছিল, হতেও পারত। এলবিডব্লিউয়ের আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার। বিতর্ক জেগে ওঠে, ওটা আউট নাকি নটআউট। সিদ্ধান্তটা পক্ষে না গেলেও দিনটা আরও একবার নিজের করে নেন মোহাম্মদ রুবেল। চার ওভারে ১৫ রানের বিনিময়ে তুলে নেন তিন উইকেট।

শেষদিকে রিপন মন্ডল সম্ভাবনার প্রদীপটা জ্বালিয়ে রাখেন। পরপর দুই ওভারে দুই মেইডেন সমেত উইকেট নিয়ে ভিক্টোরিয়াকে কোণঠাসা করে ফেলেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো রূপকথার গল্প লেখা হলো না বাংলাদেশের জন্য। দুই বল হাতে রেখে এক উইকেটের ব্যবধানে হারতে হলো ম্যাচ। সেই সঙ্গে টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির এবারের যাত্রা শেষ হলো সেমিফাইনালেই।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link