২০০১ সালের ৩০ আগস্ট। মুলতানে চলছে পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। কিন্তু প্রথম সেশনের খেলা শেষের আগেই ম্যাচ ফুরিয়ে গেল! পাক লেগ স্পিনার দানিশ ক্যানেরিয়ার বোলিং কারিকুরিতে বাংলাদেশের ব্যাটাররা নিরুপায় হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। ফলাফল? বাংলাদেশ পায় ২৬৪ রান ও ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের লজ্জা!
মাত্র এক বছর আগে আইসিসির সদস্য হওয়া বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স তো খানিকটা অনুমেয়ই ছিল সেসময়! এরপরও টেস্ট ক্রিকেটের ১২২ বছরের সুদীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশের এই হার ষষ্ঠ বৃহত্তম ব্যবধানের পরাজয় হিসেবে ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়। ১৯৯৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস ও ৩২২ রানে পরাজয়ের পর এটাই ছিল বিশ্ব ক্রিকেটে দ্বিতীয় বড় পরাজয়।
ত্রিদেশীয় এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আওতায় মুলতানে প্রথমে ব্যাটে নেমেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১৩৪ রানেই গুটিয়ে যায় মেহেরাব হোসেন, হাবিবুল বাশার ও এনামুল হকদের ইনিংস।

জবাবে রানের পসরা সাজিয়ে বসেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট হারিয়ে ৫৪৬ রান তুলে ডেক্লারেশন দেয় তাঁরা। ইনিংসটিতে সাঈদ আনোয়ার, তৌফিক উমর, ইনজামাম-উল-হক, ইউসুফ ইউহানা এবং আব্দুর রাজ্জাক—পাঁচজন আলাদা আলাদা ব্যাটার সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিরল রেকর্ড গড়েন।
এরপর বল হাতে দলটির হয়ে ঘূর্ণির ঝড় তোলেন ২০ বছর বয়সী করাচির ছেলে দানিশ ক্যানেরিয়া। জাতীয় দলে ফিরেই বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন তিনি। দুই ইনিংসে মিলিয়ে মাত্র ৯৪ রান দিয়ে এই লেগ স্পিনার একাই শিকার করেন ১২ উইকেট! প্রথম ইনিংসে ৪২ রানে ছয় উইকেট নেওয়ার পর, দ্বিতীয় ইনিংসেও ৫২ রানে ছয় উইকেট তুলে নেন তিনি। তাঁকে সঙ্গ দেন পাকিস্তানের গতি তারকা ও অধিনায়ক ওয়াকার ইউনূস।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে দ্রুত ফিরিয়ে ম্যাচে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেন ওয়াকার। মাত্র ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করা বাংলাদেশের ইনিংস পরাজয় এড়াতে প্রয়োজন ছিল ৪১২ রান। কিন্তু ৯৬ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে চরম লজ্জায় পড়ে বাংলাদেশ। সেসময়ে হঠাৎ হাবিবুল বাশার প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। নবম উইকেটে হাসিবুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি যোগ করেন ৪৫ রান। ২৩ বলে ৩১ রানের মারকুটে ইনিংস খেলে হাসিবুল বিদায় নিলেও, হাবিবুল বাশার ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে পরাজয়ের ব্যবধান কমান শুধু। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থামে ১৪৮ রানে। ইনিংস ও ২৬৪ রানে হারের লজ্জা জোটে বাংলাদেশের কপালে।

এই বিশাল পরাজয় বিশ্ব ক্রিকেটে বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলাদেশ আইসিসির কাছ থেকে টেস্ট মর্যাদা কি একটু আগেভাগেই পেয়ে গেছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেউ কেউ! কিন্তু এখন এর সবই অতীত, টেস্ট খেলতে শুরু করার ২৬ বছরে প্রায় সকল ছোট-বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই জয় পেয়েছে লাল-সবুজের পতাকাধারীরা। যা মুলতানের সেই ম্যাচের লজ্জার স্মৃতি ঘুচিয়ে দিয়েছে খানিকটা!









